ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কতাঃ কোটি কোটি নম্বর ঝুঁকিতে

২০২৫ নভেম্বর ২২ ১৬:২৬:৩৭

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কতাঃ কোটি কোটি নম্বর ঝুঁকিতে

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৩৫০ কোটি ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর এবং প্রোফাইল ছবি একসঙ্গে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এসবিএ রিসার্চের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক বড় দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোপনে ব্যবহারকারীর মেটাডেটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গেগেনহুবার জানান, হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভারে স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক মাত্রায় অনুরোধ (রিকোয়েস্ট) পাঠানো যাচ্ছিল। এই অস্বাভাবিক আচরণ পরীক্ষা করতেই তারা দুর্বলতাটি শনাক্ত করেন। তার ভাষায়—“ত্রুটিটি এমনভাবে কাজ করছিল যে এক উৎস থেকে প্রায় অসীম সংখ্যক অনুরোধ পাঠানো যাচ্ছিল, যা নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”

দলটির আরেক সদস্য আলইওশা ইউডমায়ার বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন শুধু বার্তার বিষয়বস্তু সুরক্ষিত রাখে, কিন্তু মেটাডেটা সুরক্ষিত থাকে না। ফলে বিপুল মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবি, অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যও মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

এদিকে নানা আলোচনার পর অবশেষে মেটা নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে সীমা আরোপ করা হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটির জন্য খরচও আদায় করা হতে পারে।

মেটা দাবি করছে—এটিকে "তথ্য ফাঁস" বলা যাবে না, কারণ নম্বর ও প্রোফাইল ছবি অনেক সময়ই ব্যবহারকারীদের গোপন না রেখে প্রকাশ্য অবস্থায় থাকে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্য তথ্য হলেও একসঙ্গে কোটি কোটি অ্যাকাউন্টের তথ্য স্ক্র্যাপিং করা বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—হোয়াটসঅ্যাপের ওয়েব ইন্টারফেস ব্যবহার করে তারা প্রতি ঘণ্টায় কয়েক কোটি ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে প্রায় ৫৭% অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের প্রোফাইল ছবিও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, তারা দাবি করেছেন—প্রায় ২৯% ব্যবহারকারীর চ্যাটও দেখা সম্ভব হয়েছে। তবে মেটা এই দাবি অস্বীকার করে বলছে, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন অটুট ছিল, চ্যাটের নিরাপত্তা ভাঙেনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা নতুন করে অনলাইনে সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের উচিত

প্রোফাইল ছবি ‘Contacts Only’ করা

অপ্রয়োজনীয় গ্রুপ বা অজানা নম্বর ব্লক করা

নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস আপডেট করা

কারণ প্রযুক্তিগত দুর্বলতা ঠিক করা গেলেও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সচেতনতা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা দেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত