ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রবাসীরাই এখন একমাত্র শেষ ভরসা

২০২৪ ডিসেম্বর ২৬ ২৩:২৫:৫৬

প্রবাসীরাই এখন একমাত্র শেষ ভরসা

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলে এমন একটি বড় উৎস হলো প্রবাসীদের পাঠানো আয় বা রেমিট্যান্স। ২০২৪ সালে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে পণ্য রফতানির পর এটিই ছিল দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভরসা।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ওঠানামাপ্রথমার্ধে ইতিবাচক ধারা:বছরের শুরুতে আগের সরকারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। জানুয়ারিতে আসে ২১১ কোটি ৩১ লাখ ডলার, যা বিগত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে আরও বেড়ে আসে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

ঈদ ও ডলারের উচ্চ মূল্যে প্রভাব:এপ্রিল থেকে ঈদ উপলক্ষে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন দেখা যায়। ৮ মে চালু হওয়া ক্রলিং পেগ নীতির কারণে ডলারের ভালো দাম পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে।

মধ্যবর্তী সময়ে সংকট:জুলাই ও আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণঅভ্যুত্থান, এবং ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবায় বাধার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে। জুলাইয়ে আসে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

নতুন সরকারের অধীনে গতি ফিরেছে:সেপ্টেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ আবার বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে আসে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পরবর্তী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল।

রিজার্ভে রেমিট্যান্সের ভূমিকারেমিট্যান্সের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে না হওয়ায় এটি রিজার্ভে সরাসরি অবদান রাখে। ২০২৪ সালে রিজার্ভ ১৮-২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। বছরের শেষ দিকে, ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল।

রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাডলারের উচ্চ মূল্যের কারণে আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব না হওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহকে স্থায়ীভাবে বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা ও ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে রিজার্ভের বড় পতন থেকে রক্ষা করেছে। তবে এই ধারা বজায় রাখতে সঠিক নীতি ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত