ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্রিকেটকে কেন ভদ্রলোকেদের খেলা বলা হয়, আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন মিচেল

২০২১ নভেম্বর ১১ ১৭:৫৯:৫৭

ক্রিকেটকে কেন ভদ্রলোকেদের খেলা বলা হয়, আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন মিচেল

কিন্তু, বুধবার রাতে তিনি যে শুধু দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন তাই নয়, সেই সঙ্গে জিতে নিয়েছেন হাজারা হাজার ক্রিকেটপ্রেমীর মন। ক্রিকেটকে কেন ভদ্রলোকেদের খেলা বলা হয়, আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন মিচেল।

এমনিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৪৭ বলে ৭২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মিচেল। ওপেনিং থেকে ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত মাঠে ছিলেন তিনি। নিজের হাতে ম্যাচ শেষ করে এসেছেন। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে এ হেন ইনিংস নিঃসন্দেহে প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। এমনিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বের অজাতশত্রু। ক্রিকেট মাঠে স্পোর্টসম্যানস স্পিরিট এবং ভদ্র আচরণের নজির গড়েছে তাঁরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মিচেল যেটা করলেন, সেটা বোধ হয় অতি বড় স্পোর্টসম্যানের পক্ষেও করাটা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।

ঠিক কী করেছেন ডারিল মিচেল ? নিউজিল্যান্ড তখন রান তাড়া করতে গিয়ে বেশ চাপে। শেষ ১৮ বলে দরকার ৩৪ রান। ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে আদিল রশিদের বল লং অফের দিকে ঠেলে দেন কিউয়ি ব্যাটসম্যান নিশাম। আদিল রশিদ বলটি ফিল্ডিং করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই রান নিয়ে উদ্যত হন মিচেল। যার ফলে বল ধরতে সমস্যা হয় রশিদের । তিনি বলটি ধরতে পারেননি। সেটি চলে যায় লং-অফ ফিল্ডারের কাছে। ক্রিকেটে এমনটা আকছার হয়েই থাকে। এরপর চাইলেই ওই বলটিতে একটি সিঙ্গেল নিয়ে নিতে পারতেন মিচেল। কিন্তু তিনি তা করেননি। রশিদ যেহেতু তাঁর জন্য বাধা পেয়েছেন তাই রানটি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মিচেল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ যা একপ্রকার অভাবনীয়।

ম্যাচ শেষে এই অভাবনীয় কাণ্ডটি প্রসঙ্গে মিচেল বলছিলেন,”আমার মনে হয়েছিল, আমি বোধ হয় রশিদকে বলটি ধরতে বাধা দিয়ে ফেলেছি। আমি বিতর্কে জড়াতে চাইনি। তাই খোলামনেই রানটি নিতে চাইনি। আমরা খেলোয়াড় সুলভ মানসিকতা নিয়ে ক্রিকেটটা খেলি। আমার মনে হয়েছিল এটা আমার ভুল, তাই রান নিইনি। আমি ভাগ্যবান যে খেলার ফলাফলে এর কোনও প্রভাব পড়েনি।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত