ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৬০ নিত্যপণ্যে কর কমছে, বাজারে স্বস্তির আশায় ভোক্তারা

২০২৬ জুন ১১ ১৯:১৩:২৬

৬০ নিত্যপণ্যে কর কমছে, বাজারে স্বস্তির আশায় ভোক্তারা

মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চাল, ধান, গম, আলু, মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ হারে উৎসে কর কার্যকর রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর কমানোর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছে সরকার।

এদিকে দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহারকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি, পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর ২৫ শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে সরিষা, তিলসহ অন্যান্য তৈলবীজের উৎপাদন বাড়বে, কৃষকরা উৎসাহিত হবেন এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ভোজ্যতেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো নয়, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল পাবে। এখন ভোক্তারা অপেক্ষায় আছেন, বাজেটের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পর বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়ে তা দেখার জন্য।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত