ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৬-২৭ বাজেটে : ভর্তুকিতে বড় কাটছাঁট! কমছে ১৯ হাজার কোটি টাকা

২০২৬ জুন ১১ ০৯:২৪:১১

২০২৬-২৭ বাজেটে : ভর্তুকিতে বড় কাটছাঁট! কমছে ১৯ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় ভর্তুকি বাবদ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা কম বরাদ্দ রাখা হতে পারে। অন্যদিকে রপ্তানি, পাটশিল্প ও প্রবাসী আয়কে উৎসাহ দিতে প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দাম কমার সম্ভাবনা এবং অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কারণে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হলে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় আরও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তুকি খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। সেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা কম অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৯৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা। আর মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৮ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। ফলে নতুন বাজেটে সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায়ও কিছুটা হ্রাস দেখা যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সাধারণত গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং খাদ্য খাতের ব্যয়কে সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে কৃষি খাতে দেওয়া সহায়তা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেখানো হয়। একইভাবে খাদ্য খাতের কিছু ব্যয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এবং কিছু অংশ ভর্তুকি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে দেশের রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রণোদনা, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি সহায়তা এবং প্রবাসী আয়ের প্রণোদনা বাবদ মোট ১৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন, রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উৎসাহ দেওয়া সরকারের নতুন অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। এতে একদিকে বাজেটের চাপ কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত