ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

২০২৬ মে ১৫ ১৬:৪২:৩৩

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও লাফিয়ে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা ও আটকের ঘটনায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ০৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৫০ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো সপ্তাহজুড়ে তেলের বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরান সংকট, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসতে হবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্র আর ধৈর্য ধরবে না। তার এই মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল থেকে একটি জাহাজ আটক করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে ওমান উপকূলে একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা। যদিও কিছু জাহাজ আবার চলাচল শুরু করেছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত