ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ : বিপিএল থেকে বাদ সেই দল? ভয়াবহ পরিস্থিতি, কি হবে বিপিএলে

২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ১৪:৩০:২১

ব্রেকিং নিউজ : বিপিএল থেকে বাদ সেই দল? ভয়াবহ পরিস্থিতি, কি হবে বিপিএলে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর শুরুর আগেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ছয় দলের টুর্নামেন্ট থেকে একটি দল কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আর্থিক সংকট এবং মালিকপক্ষের সাথে বিসিবির যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর আসরের অন্যতম দল ‘চট্টগ্রাম রয়্যালস’-এর দিকে।

মালিকানা ও অর্থায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা‘রাজকীয়’ নাম ধারণ করা চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানায় কারা আছেন এবং তাদের অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে শুরু থেকেই অস্পষ্টতা ছিল। ড্রাফট এবং দল গঠনের পর এখন শোনা যাচ্ছে, দল পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কাছে নেই। বিসিবি এবং সংবাদকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও দলের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভেতরেও এ নিয়ে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে।

প্লেয়ার ড্রাফটে অসামঞ্জস্য ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তআর্থিক সংকটের কথা বলা হলেও প্লেয়ার ড্রাফটে চট্টগ্রাম রয়্যালসের আচরণ ছিল বিস্ময়কর। যেখানে সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনের মতো দুজন ক্রিকেটারকে অন্য দলগুলো মিলে ৪৬ লাখ টাকায় দলে ভিড়িয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস একাই নাঈম শেখের পেছনে খরচ করেছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। যে দলের ফান্ডিং নিয়ে সমস্যা, তারা একজন খেলোয়াড়ের পেছনে এত বিপুল অর্থ কেন খরচ করল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া উইকেটকিপার ব্যাটার জাহিদুজ্জামান সাগরের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে যার গড় মাত্র সাড়ে ১৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৬, তাকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত বিপিএল আসরগুলোতে ঢাকা ডমিনেটর্স বা দুর্দান্ত ঢাকার মতো যেসব দল নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেসব দলেই খেলেছিলেন এই জাহিদুজ্জামান সাগর।

নেপথ্যে বিতর্কিত আমিন খান ও দুর্নীতি দমন ইউনিটের সতর্কতাচট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পরিস্থিতির পেছনে নেপথ্যে আমিন খান নামের এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের আর্থিক অসচ্ছলতা ও সংকটের সময়ও তার নাম শোনা গিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত বিপিএল আসরগুলোতে ঢাকা ডমিনেটর্স এবং দুর্দান্ত ঢাকার সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) এবং আইসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কতা জারি করেছে বলে জানা গেছে। তবুও এবার তিনি চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাথে যুক্ত হয়ে দল গঠনে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

কোচিং প্যানেল ও খেলোয়াড়দের ক্ষোভঅন্যান্য দলগুলো যেখানে দেশসেরা কোচদের (যেমন—রংপুরে আশরাফুল, সিলেটে সোহেল ইসলাম, নোয়াখালীতে খালেদ মাহমুদ সুজন) নিয়োগ দিয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে মোমিনুল হক নামের একজনকে, যিনিও ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। দলের এমন হযবরল অবস্থা আঁচ করতে পেরে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন দলটির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে দল গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম দেখে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শেখ মেহেদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ড্রাফট থেকে দলভুক্ত হওয়ার পরেও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন নাঈম শেখসহ অন্য ক্রিকেটাররা।

বিসিবির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সমাধানবিপিএলের এই সংকটময় মুহূর্তে বিসিবির ভেতরেও অস্থিরতা চলছে। বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার ফোন চেক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নজিরবিহীন। তবে টুর্নামেন্টকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই হয়তো চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব নিতে হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অংশ নিতে না পারে বা তাদের বাদ দেওয়া হয়, তবে আসন্ন বিপিএল হয়তো ৫ দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হবে। এতে করে ড্রাফটে দল পাওয়া অনেক লোকাল ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ও আর্থিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ