ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আফগানিস্তানে যে খেলা নিষিদ্ধ করল তালেবান

২০২৫ মে ১১ ২২:৩৯:৫০

আফগানিস্তানে যে খেলা নিষিদ্ধ করল তালেবান

তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানে দাবা খেলা নিষিদ্ধ করেছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সরকারের নৈতিকতা আইনে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় দাবাকে জুয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে রবিবার এক ক্রীড়া কর্মকর্তা জানান।

২০২১ সালে দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার ক্রমাগত এমন আইন ও বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, যা ইসলামী আইনের তাদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। গত বছর ঘোষিত পুণ্য প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ আইনের কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া পরিদপ্তরের মুখপাত্র আতাউল মাশওয়ানি বলেন, ‘শরিয়াহ (ইসলামী আইন) অনুযায়ী দাবা জুয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

দাবা খেলার বিষয়ে ধর্মীয় কিছু বিবেচনা রয়েছে। এই বিষয়গুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তানে দাবা খেলা স্থগিত থাকবে।’

মাশওয়ানি জানান, জাতীয় দাবা ফেডারেশন প্রায় দুই বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক ইভেন্ট আয়োজন করেনি এবং নেতৃত্বের স্তরে কিছু সমস্যা ছিল।

এদিকে আজিজুল্লাহ গুলজাদা কাবুলে একটি ক্যাফের মালিক, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনানুষ্ঠানিক দাবা প্রতিযোগিতা হয়েছে।

তবে তিনি দাবি করেন, সেখানে কোনো জুয়া হয়নি। অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে দাবা খেলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক মুসলিম দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাবা খেলোয়াড় রয়েছেন।’তিনি এই স্থগিতাদেশকে সম্মান করবেন বলে জানান। তবে এটি তার ব্যবসা ও যারা দাবা উপভোগ করেন তাদের ক্ষতি করবে জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে তরুণদের জন্য খুব বেশি বিনোদন নেই, তাই অনেকে প্রতিদিন এখানে আসত।

তারা এক কাপ চা নিয়ে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে দাবা খেলায় মেতে উঠত।’সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ অন্যান্য খেলাধুলাতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং নারীদের কার্যত দেশটিতে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বছর কর্তৃপক্ষ মিশ্র মার্শাল আর্টের (এমএমএ) মতো ফ্রি ফাইটিং পেশাদার প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ করে। কারণ এটি ‘খুব সহিংস’ ও ‘শরিয়াহর দৃষ্টিতে সমস্যাযুক্ত’ বলে মনে করা হয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত