ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

এক নজরের এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শক্তি ও দূর্বলার জায়গা

২০২৩ অক্টোবর ০২ ১৬:৫৩:৫৯

এক নজরের এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শক্তি ও দূর্বলার জায়গা

সময় অনেক বদলে গেছে। কারণ একটা সময় ছিল যখন শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পরাজয় নিশ্চিত মনে করা হতো। তখন দলের ইচ্ছা ছিল কিন্তু শক্তি ছিল না। কিন্তু সময় বদলেছে এবং বাংলাদেশ নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারাতে সক্ষম দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।

সম্প্রতি এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে যে কোনো শীর্ষ দলকে পরাস্ত করার সামর্থ্য দেখিয়েছে পদ্মা পাড়ার জাতি। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এ কারণে ভারতের মাটিতে ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে অবমূল্যায়ন করলে অন্য দলগুলো ভুল করবে।

চলতি বছরে বাংলাদেশের পারফরমেন্সের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এবছর ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তারা আটটি জিতেছে এবং তিনটি ম্যাচের ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এই দল এবার নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। ২০১৯ সালে খেলা শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই দলটি ভালো শুরু করে। কিন্তু তারপর লাইন থেকে বিচ্যুত হয় তারা। সেই টুর্নামেন্টে সাকিব একার ক্যারিশমায় বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ জিতেছিলেন। এবারও তার কাছ থেকে একই প্রত্যাশা করা হবে। বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত কখনও উঠতে পারেনি এবং এবার তারা সেটাই করে দেখাতে মরিয়া।

দলের দুর্বলতা কি?

এবারের বিশ্বকাপে তামিমের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা তাদের ওপেনিং জুটি। এখানে দলে তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ নাইমের বিকল্প রয়েছে যারা লিটন দাসের সাথে ইনিংস ওপেন করতে পারেন। তবে দুজনেরই ম্যাচ খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া ইবাদত হোসেনের চোটের কারণে দলের ফাস্ট বোলিং আক্রমণও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এমতাবস্থায় অনেকটা দায়িত্ব বর্তাবে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের কাঁধে। এই দুজন ছাড়া দলে নেই কোন দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার। এটাই এই দলের দুর্বলতা। তবে বাংলাদেশ দলটির দিকে তাকালে দেখা যায়, ধারাবাহিকতার অভাব তাবের অনেক ক্ষতি করেছে। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারছে না পদ্মাপারের দেশে। দল যদি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দিতে চায় তাহলে এই জায়গাটা অবশ্যই মেরামত করতে হবে।

বাংলাদেশ দলের শক্তির জায়গাটা কোথায়?

বাংলাদেশ দলে ভালো ব্যাটসম্যান ও স্পিনার আছে। এই দলে সাকিব আল হাসান এবং মেহেদি হাসান মিরাজের মতো দুই ভালো স্পিনার রয়েছে যারা ভারতের মাটিতে ব্যাটসম্যানদের জন্য ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। সাকিব সম্পর্কে বিশ্ব জানে সে কী করতে পারে। এই বাঁহাতি স্পিনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ যা দলের জন্য কাজে লাগবে। মিরাজের অফ স্পিনেও অনেক বৈচিত্র আছে।

এই দলে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে যার মধ্যে একজন মিরাজ। মিরাজ শুধুমাত্র তার চমৎকার অফ স্পিনের জন্যই পরিচিত নয়, তিনি তার ব্যাটিং দিয়ে দলের জন্য ম্যাচ জিততে পারেন। ওয়ানডেতে আট নম্বরে এসে সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটসম্যান এবং তাও ভারতের বিপক্ষে। চোটের কারণে তামিম ইকবাল দলে না থাকায় দলের ব্যাটিংয়ে ধাক্কা লাগলেও, তারপরও বাংলাদেশ দলে এমন ব্যাটসম্যান আছে যারা দ্রুত রান তুলতে পারে। সাকিবের ব্যাটও খুব ভালো চলে। তিনি ছাড়াও আছেন লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহামুদুল্লাহ ও নাজমুল হাসান শান্ত। তাদের ব্যাট কাজ করলে অন্য দলগুলোর সমস্যায় পড়াটা একপ্রকার নিশ্চিত।

বাংলাদেশের স্কোয়াড:

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হাসান শান্ত (সহ-অধিনায়ক) লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তৌহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহামুদুল্লাহ, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মাহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ ইসলাম, তানজীম হাসান সাকিব

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ