ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলাদেশ টি-২০ দল নিয়ে অবিশ্বাস্য এক মন্তব্য করলেন সাকিবের গুরু

২০২২ আগস্ট ০৩ ২২:১৩:৩৫

বাংলাদেশ টি-২০ দল নিয়ে অবিশ্বাস্য এক মন্তব্য করলেন সাকিবের গুরু

কেন এ পরাজয়? কী দুর্বলতার কারণে হারতে হলো বাংলাদেশকে? অভিজ্ঞ, পরিণত আর তারকাদের ছাড়া একঝাঁক তরুণে গড়া টাইগারদের না পারার কারণ কি? ভক্ত ও সমর্থকরা সবাই সে কারণটাই খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

জিম্বাবুয়ের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আসলে কেন পারলো না বাংলাদেশ? জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে সে কারণটা খুঁজে বের করেছেন দেশের নামি কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম।

টাইগারদের হারের কারণ খুঁজতে গিয়েও নিজ সন্তানতুল্য ক্রিকেটারদের শক্তি ও সামর্থ্যকে খাটো করে দেখেননি ফাহিম। তীর্যক সমালোচনার বদলে প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টায় থাকা বিকেএসপির বর্তমান প্রধান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা একবারের জন্যও বলেননি, এ দলটির কোনো মেধা ও যোগ্যতা নেই। বরং তার মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে আহামরি কোন দল নয়। যদিও এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়ে একটা সাজানো গোছানো দল হিসেবে খেলেছে।

সামগ্রিকভাবে জিম্বাবুয়ের এই দলটির যা সামর্থ্য, তাতে তারা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট অর্থ্যাৎ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ৩ থেকে ৪টি দলকে হারনোর যোগ্যতাও রাখে না। এ নিয়ে ফাহিম বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, জিম্বাবুয়ে আমাদের ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের মানের দল। আমাদের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের অন্তত ৩ থেকে ৪টি দল আছে, যাদের শক্তি ওই দলটির চেয়ে বেশি; কিন্তু আফসোস এমন এক কমজোরি দলের কাছেও হারলাম আমরা। আমরা জেতার খেলা বহুদুরে, একটা ইউনিট হয়েই খেলতে পারলাম না।’

তাহলে এমন একটি দলের বিপক্ষে কেন পারলো না বাংলাদেশ? ফাহিমের ব্যাখ্যা, ‘আসলে আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছি যে, পুরো দল ভুগছে এক অদ্ভুত অস্থিরতায়। কখন কী হবে? যদি ভাল না খেলি, নিজেকে মেলে ধরতে না পারি তাহলে দলে থাকবো কি না, নতুনদের প্রায় সবাই এমন অনিশ্চয়তায় ভুগছে। আবার কারো কারো ভিতরে নিজেকে মেলে ধরার তাগিদ। তারা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তায় মশগুল। তাই দল হয়ে খেলার চেয়ে সবাই নিজেকে নিয়ে চিন্তিত। কি হয়, কি হবে- এই ভেবেই অস্থির যেন সবাই। এমন অবস্থা বিরাজ করলে অন্তত দল হয়ে খেলা যায় না। আমাদের ক্রিকেটাররাও একটি দল হয়ে খেলতে পারছে না।’

ফাহিম যোগ করেন, ‘চারদিক থেকে একটা বার্তা গেছে এবং যাচ্ছে যে- আমরা টি-টোয়েন্টি পারি না। আমার মনে হয় এটাও একটা খারাপ প্রভাব ফেলেছে দলে। মোট কথা, একটা নেগেটিভ হাইপ উঠেছে। সেটাও ক্ষতিকর। আস্থা ও আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণও এটা।’

লিটন দাস রান করলে রান হয়। আর না করলে হয় না। মাঠের পারফরমেন্স বিশেষ করে ব্যাটিংটা প্রত্যাশিত মানের না হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে ফাহিম বলেন, ‘ব্যাটারদের দেখে মনে হচ্ছে তাদের মাঝে কাজ করছে ব্যর্থ হওয়ার ভয়-ভীতি। বেশির ভাগই ভয়ে ভয়ে খেলছে যে, যদি কম রান করে আউট হয়ে যাই, তাহলে হয়তো আর চান্স পাব না। বাদ পড়ে যাব।’

‘সম্ভবত এসব চিন্তা থেকে ঝুঁকি নিয়ে শটস খেলা এবং হাত খুলে আক্রমণাত্মক উইলোবাজি করতে দেখলাম না কাউকে। সবাই নিরাপদ থেকে ১০৫ থেকে ১১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করলো। কেউ একটু ঝুঁকি নিয়ে স্ট্রাইকরেটটা ১৪০ বা দেড়শোর ওপরে নেয়ার চেষ্টা করলো না। কালকে আফিফ আর রিয়াদ খেললো ওই বল পিছু রান করে। মাঝখানে কেউ একজন একটু সাহস ও ঝুঁকি নিয়ে হাত খুলে খেললেই হয়তো হয়ে যেত; কিন্তু কেউ সে চেষ্টা করলো না। ওই আগ্রাসনটাই কারো মাঝে দেখা গেলো না।’

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ