ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

মিরপুরে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু, মিরপুরেই শেষ

২০২২ এপ্রিল ১২ ২০:৩৫:২৫

মিরপুরে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু, মিরপুরেই শেষ

“এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, আমার পরিবার এবং দেশের হয়ে আমি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। সেসব স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা সারা জীবন আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে”-বলছিলেন হামিশ

২০১০ সালের অক্টোবরে মিরপুরের মাটিতে সর্বপ্রথম ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে হামিশের। নিজের অভিষেক ম্যাচে ৮ ওভারে ৫.৫০ ইকোনমিতে ৪৪ রান খরচায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার।

যদিও, সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্সে ৯ রানে জিতেছিল টাইগাররা। এমনকি, প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ৫ ম্যাচের সেই সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে জিতেও ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয়।

কাকতালীয়ভাবে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের শেষ ম্যাচটাও তিনি খেলেছেন মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ৩ ওভারে ১৭ রান খরচায় উইকেটশূন্য ছিলেন এই পেসার। মজার ব্যাপার, সে ম্যাচেও ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ম্যাচসেরা ছিলেন নাসুম আহমেদ। ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে এখানেও সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।হরহামেশাই প্রশ্ন এখন ওঠে আইপিএল বড় নাকি দেশ। একেকটি আসর খেলেই বিশাল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে বলে আইপিএলের দিকে এখন ক্রিকেটাররা তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকে। আবার বেশির ভাগ সময় দেখা যায় আইপিএলে খেলার জন্য অনেকে ক্রিকেটার জাতীয় দলের খেলাও বাদ দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে যেমনটি করেছেন লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদারাও। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজকে ‘না’ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আইপিএলে যাত্রা করেন। এতে তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পড়ে গেছে হুমকির মুখে।

প্রোটিয়াদের টেস্ট অধিনায়ক ডিন এলগার বলেন,’দেশের খেলা রেখে আইপিএল খেলতে যাওয়া ক্রিকেটাররা আবার জাতীয় দলে জায়গা পাবেন, এই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।’ যদিও কাগিসো রাবাদা, মার্কো জানসেন, লুঙ্গি এনগিডি, অ্যানরিখ নরকিয়া, রাসি ভন ডার ডুসেন ও অ্যাইডেন মারক্রামের মত তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই এলগারের দল দাপটের সাথে ধবোলধোলায় করেছে বাংলাদেশকে। এই সব তারকাদের জায়গায় যারা সুযোগ পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পারফরম্যান্সই ছিল অত্যান্ত ভালো।

তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে পুরনো ক্রিকেটারদের আবার দলে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অধিনায়ক এলগার সিরিজ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না ওদের আর কখনও দলে নেওয়া হবে কিনা। ওটা আমার হাতে নেই।’

এদিকে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ মার্ক বাউচার জানালেন, লুঙ্গি-রাবাদাদের রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণ করতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে কতটা ভাবতে হয়েছে নির্বাচকদের। শূন্যস্থান পূরণ করতে আসা ক্রিকেটাররা যখন ভালো করেন, তখন পুরনোদের দলে ফিরিয়ে আনা একটু কঠিনই বটে।

বাউচার বলেন, ‘ওরা আইপিএলে খেলতে গিয়ে নিজের জায়গা ফাঁকা করে দিয়েছিল। আর এই শূন্যস্থান পূরণ করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না।’

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ