ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভলিবল খেলোয়াড় এখন ক্রিকেটার এবাদত

২০২২ জানুয়ারি ০৫ ২০:০৪:৩৮

ভলিবল খেলোয়াড় এখন ক্রিকেটার এবাদত

আগের দিন ৪ উইকেট নেওয়া এবাদত শেষ দিনেও নায়ক। ৪৬ রানে তার শিকার ৬ উইকেট। দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। তার হাত ধরে প্রায় ৯ বছর ও ৪৭ ম্যাচ পর টেস্টে ৫ উইকেট পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার।

এবাদতের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ নিল বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই। টম লাথামের দলকে ৮ উইকেটে হারাল মুমিনুল বাহিনী। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ এবাদত হোসেন।

এবাদত হোসেন ছিলেন মূলতঃ একজন ভলিবল খেলোয়াড়। সেখান থেকে হলেন ক্রিকেটার। ম্যাচ শেষে এবাদত বলেছিলেন, ‘ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসার গল্পটা অনেক লম্বা। আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করছি। বাংলাদেশ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করাটাও।’

সেই লম্বা গল্পটাই জানাবো আজ। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন এবাদত হোসেন। আগে পাড়ার মাঠে মাঝেমধ্যে ক্রিকেট খেলতেন। বাবা চাকরি করতেন বিজিবিতে। বাবার দেখানো পথেই হাঁটলেন এবাদত। শৃঙ্খলিত জীবন গড়বেন বলে ২০১২ সালে যোগ দিলেন বিমান বাহিনীতে। বাঁধা জীবনে চাকরির পাশাপাশি চলছিল খেলাধুলাও; ভলিবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল এসব। এরপর বিমানবাহিনীর নিয়মিত ভলিবল খেলোয়াড় হয়ে যান।

কিন্তু ভলিবলেও নিজেকে বেধে রাখতে পারলেন না। কারণ তার মন পড়ে থাকে ক্রিকেট মাঠে। ২০১৪ সালে সিটি ক্লাবের হয়ে ঢাকায় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান এবাদত। ক্রিকেটে পরিচিত হতে থাকেন ধীরে ধীরে। ২ বছর পর সামনে চলে আসে সূবর্ণ সুযোগ।

২০১৬ সালে রবির সহযোগিতায় বিসিবি আয়োজন করে পেসার হান্টের। এখানেই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে যান এবাদত হোসেন। প্রথমে ঢাকা থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ফরিদপুর গিয়ে পেসার হান্টে অংশ নেন।

এবাদতের পাশাপাশি প্রায় ১৪ হাজার ৬৪১ জন প্রতিযোগী নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে সেখানে যান। এতো মানুষের ভিড়ে শুধু দুটি বল করার সুযোগ পান তিনি। যেখানে একটি বল করলেন ১৩৯.০৯ কিলোমিটার গতিতে। এই দুটি বল করেই নির্বাচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন তিনি।

পেসার হান্টে নির্বাচিত হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা দিতে এবাদত চলে আসেন ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে। এখানে পেসারদের নির্বাচিত করার কাজ ছিল পাকিস্তানের সাবেক পেসার আকিব জাবেদের। বলের গতি দিয়ে কোচদের সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন বিমাবাহিনীর এ তরুণ।

এমনকি সবর্শেষ প্রায় লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে পেসার হান্টে প্রথম হলেন তিনি। প্রায় ৬৩ জনকে বাছাই করা হয় প্রতিযোগিতাটি থেকে। এই কজনের মধ্যে ১৩৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে প্রথমস্থান অধিকার করেন এবাদত।এরপর তিনি চলে আসেন হাই পারফরমেন্স দলের হয়ে ট্রেনিং করতে। আকিব জাবেদও এবাদতকে নিয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০১৯ সালের মার্চে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত