ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, নতুন শপথ নিলেন সালাহ

২০২৬ জুলাই ১০ ১৮:০৬:২০

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, নতুন শপথ নিলেন সালাহ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর এক লড়াই উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন প্রায় স্পর্শ করেও শেষ মুহূর্তে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মিশর শিবিরে নেমে আসে গভীর হতাশা। খেলোয়াড়দের চোখে ছিল কান্না, আর সমর্থকদের মনে ছিল অপূর্ণ স্বপ্নের কষ্ট।

তবে এমন কঠিন মুহূর্তেও আশার বার্তা দিয়েছেন দলটির অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। সালাহর বিশ্বাস, এই দল একদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

নিজের বার্তায় সালাহ বলেন, সমর্থকদের হতাশা তিনি অনুভব করতে পারছেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জাতীয় দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে শুধু বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই লক্ষ্য থাকবে না; বরং বড় শিরোপার জন্য লড়াই করার মতো শক্তিশালী দল গড়ে তোলাই হবে মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন দলের ওপর আস্থা রাখার জন্য।

যদিও এবারের বিশ্বকাপ মিশরের জন্য হতাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে, তবুও এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল আসর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোচ হোসাম হাসানের নেতৃত্বে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দারুণ পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এরপর গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক লড়াকু ফুটবল খেলে নকআউট পর্বে ওঠে তারা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ড্র করে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে ফারাওরা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় উদযাপন করে দলটি। সেই জয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করে মিশরীয় ফুটবল।

কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশর দুর্দান্ত শুরু করেছিল। ম্যাচের বড় একটি সময় তারা ২-০ গোলে এগিয়েও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের সামনে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। আর্জেন্টিনা টানা তিন গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে, আর মিশরের স্বপ্ন থেমে যায় শেষ আটের আগেই।

পুরো টুর্নামেন্টে মোহামেদ সালাহ ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফরমার। তিনি একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করেন। মাঠে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে তিনি পুরো আসরেই মিশরকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হলেও সালাহর বার্তা স্পষ্ট—এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক যাত্রার শুরু। তার লক্ষ্য, আগামী বছরগুলোতে মিশরকে শুধু বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী নয়, বরং বড় শিরোপার দাবিদার দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ