ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ফিফার নতুন নিয়মে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথ সহজ

২০২৬ জুলাই ০৯ ২৩:৫২:১১

ফিফার নতুন নিয়মে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথ সহজ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে নতুন একটি বিষয় নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা এমন একটি সিডিং পদ্ধতি চালু করেছিল, যার ফলে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায় না। এই নিয়মের ফলে আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থক।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ের আগে ফিফা এই নতুন সিডিং কাঠামো প্রকাশ করে। সে সময় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলে ছিল স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই চার দলকে নকআউট ব্র্যাকেটের ভিন্ন অংশে রাখা হয়, যাতে তারা সেমিফাইনালের আগে পরস্পরের বিপক্ষে খেলতে না পারে। তবে এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার জন্য একটি শর্ত ছিল—প্রত্যেক দলকে নিজেদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।

শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই ঘটেছে। চারটি দলই গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে এবং কোয়ার্টার ফাইনালেও একে অপরকে এড়িয়ে ভিন্ন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী স্পেন খেলছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের সামনে মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

ফিফার এই সিডিং ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোকে টুর্নামেন্টে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখা, যাতে শেষ পর্যায়ে বড় দলগুলোর হাই-ভোল্টেজ লড়াই দেখা যায়। একই ধরনের সিডিং পদ্ধতি টেনিসের উইম্বলডন এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের কয়েকটি প্রতিযোগিতাতেও ব্যবহার করা হয়।

এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি চার ফেবারিট দলই কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে যায়, তাহলে সেমিফাইনালে সম্ভাব্য ম্যাচ হবে স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। ফলে ফুটবলপ্রেমীরা ফাইনালের আগেই দুটি বড় লড়াই উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

তবে এই নতুন কাঠামো নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। অনেকের অভিযোগ, এতে পরাশক্তি দলগুলো তুলনামূলক সহজ পথ পেয়ে যাচ্ছে এবং ছোট দলগুলোর জন্য নকআউট পর্ব আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিংয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ওই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি প্যানেলকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা। যদিও ফিফা এখন পর্যন্ত ম্যাচের ফল বা টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি।

ফিফার নতুন সিডিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চললেও বাস্তবতা হলো, এখন সবকিছুই নির্ধারণ হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচই ঠিক করে দেবে শেষ পর্যন্ত কোন চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত