ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নিয়ে জার্মান গবেষকের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ জুন ২৭ ১৬:৫৯:২৩

বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নিয়ে জার্মান গবেষকের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও জাপানের লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে এশিয়ার শক্তিশালী প্রতিনিধি জাপান। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিক সাফল্য এবং একটি আলোচিত গবেষণা—সব মিলিয়ে এই ম্যাচ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।

আগামী ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচে ব্রাজিলের লক্ষ্য ষষ্ঠ শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া, আর জাপানের স্বপ্ন ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে জাপান। গত বছর টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় বার্তা দিয়েছিল তারা। এরপর টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছে 'সামুরাই ব্লু'রা। এই সময়ে তারা ইংল্যান্ডকে ওয়েম্বলিতে হারিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র করেছে এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়ার ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।

গ্রুপ পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠে জাপান। গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি জানিয়েছেন, অপরাজিত ধারাবাহিকতা এবং দলীয় আত্মবিশ্বাসই ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুও মনে করেন, অতীতের সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে জাপান এখন আর কোনো বড় দলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ নয়।

অন্যদিকে ব্রাজিলও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেতৃত্বে তাদের আক্রমণভাগ প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি আক্রমণাত্মক ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে। তবে মোরিয়াসুর বিশ্বাস, আগের পরাজয়ের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলকে সতর্ক করবে ঠিকই, কিন্তু জাপানের জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

জাপানের বর্তমান শক্তি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি জিকোও। একসময় জাপান জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা এই ফুটবল কিংবদন্তির মতে, বর্তমান জাপান বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তির সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার মতো মানসিকতা ও সামর্থ্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, কয়েক বছর ধরে ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে জাপান প্রমাণ করেছে তারা এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় দল নয়, বরং শিরোপাপ্রত্যাশীদের জন্যও বড় হুমকি।

এদিকে বিশ্বকাপের আগে আলোচনায় এসেছে জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের ফলাফল নিয়ে আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী করে আসা এই গবেষক তার গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জাপানের কাছেই বিদায় নিতে পারে ব্রাজিল। তার মডেলে শুধু ফুটবলীয় পরিসংখ্যান নয়, বরং মাথাপিছু আয়, জনসংখ্যা, আবহাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

তবে ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস শতভাগ নির্ভুল নয়। বাস্তব পরিস্থিতি ও নকআউটের সমীকরণ বদলে যাওয়ায় তার কিছু পূর্বাভাস আগেও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়ে তার বিশ্লেষণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

এখন দেখার অপেক্ষা, গাণিতিক হিসাবই সত্যি হয়, নাকি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের জোরে ব্রাজিল আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—হিউস্টনের এই লড়াই বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপভোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত