ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

২০২৬ জুন ২১ ০৯:৫৮:৫৪

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে কুরাসাও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া ক্যারিবীয় দেশটি শক্তিশালী ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে অর্জন করেছে টুর্নামেন্ট ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট।

ক্যানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে পুরো সময়জুড়ে আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। তবে গোলকিপার এলয় রুমের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জন্য এটি শুধুই একটি ড্র নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার বড় মঞ্চ। জার্মানির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলের বড় পরাজয়ের পর অনেকে কুরাসাওকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে লড়াই করার সামর্থ্য তাদেরও আছে।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক এলয় রুম। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি গড়ে তোলেন রীতিমতো অদম্য প্রাচীর। পুরো ম্যাচে তিনি ১৫টি সেভ করেন, যা ৯০ মিনিটে শেষ হওয়া কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে একজন গোলকিপারের সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড একটি ম্যাচে এর চেয়ে বেশি সেভ করেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন, তবে সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচে এলয় রুমের কীর্তি এখন নতুন মাইলফলক।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল ইকুয়েডর। তারা মোট ২৬টি শট নেয়, যার ১৫টি ছিল লক্ষ্যভেদী। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান রুম। অন্যদিকে কুরাসাওও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার সুযোগ তৈরি করে। তারা ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল অন টার্গেট।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘ই’-এর সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। জার্মানি ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং প্রায় নিশ্চিতভাবে নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে গেছে। আইভরি কোস্ট রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে ইকুয়েডর ও কুরাসাও নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে শেষ ম্যাচের আগে আশা বাঁচিয়ে রাখল।

ম্যাচ শেষে কুরাসাওর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণেই প্রথম পয়েন্ট অর্জনের আনন্দে ভাসে পুরো দল। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কেন্দ্রে ছিলেন গোলকিপার এলয় রুম, যার অনবদ্য পারফরম্যান্স কুরাসাও ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ