ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে দারুণ প্রত্যাবর্তন নরওয়ের

২০২৬ জুন ১৭ ১০:১৭:২৬

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে দারুণ প্রত্যাবর্তন নরওয়ের

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণ শুরু করল নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত বার্তা দিয়েছে ইউরোপের এই দলটি।

বস্টোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে আলোচনায় চলে আসেন আর্লিং হলান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না পেলেও তার দল ম্যাচে পুরো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

ম্যাচের ২৮তম মিনিটে প্রথম গোল করেন হলান্ড। ডি-বক্সের মধ্যে সতীর্থ ডেভিড মোলার উলফের নিখুঁত পাস থেকে ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর ৩৮তম মিনিটে ইরাক সমতায় ফিরলেও বিরতির আগেই আবার এগিয়ে যায় নরওয়ে। গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড।

বিশ্বকাপে এটি ছিল নরওয়ের বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন। ১৯৯৮ সালের পর আবারও মূল মঞ্চে ফিরে এসে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নেয় তারা। এই ম্যাচে নরওয়ে ইতিহাসও গড়ে—বিশ্বকাপের এক ম্যাচে প্রথমবার চারটি গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করে দলটি।

ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ছিল নরওয়ের আধিপত্য। তারা ১২টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে, যার মধ্যে ৪টি গোল হয়। অন্যদিকে ইরাক ১১টি শট নিয়ে মাত্র একটি গোল করতে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও হলান্ড তা কাজে লাগাতে পারেননি। তবে ৭৬তম মিনিটে বদলি লিও অস্টিগার্ড দলের তৃতীয় গোল করেন। এরপর ম্যাচের শেষদিকে আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে স্কোরলাইন ৪-১ করেন ইরাকের আয়মান হোসেন।

এই ম্যাচে হলান্ড জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫৭তম গোল পূর্ণ করেন, মাত্র ৫১ ম্যাচে—যা তার অসাধারণ গোল করার ধারাবাহিকতাকে আরও একবার প্রমাণ করে।

ইরাকের জন্যও এটি ছিল ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন, তবে নরওয়ের শক্তি ও গতি তাদের জন্য অতিরিক্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সব মিলিয়ে, হলান্ডের জোড়া গোল এবং নরওয়ের দলগত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে তাদের শক্ত উপস্থিতির ঘোষণা দিয়ে গেল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত