ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে যেন ‘পাগলা ঘোড়া’ এমবাপ্পে—মেসি-রোনালদো যুগ পেরিয়ে নতুন রাজত্বের ইঙ্গিত

২০২৬ জুন ১৭ ০৯:৪৪:১৬

বিশ্বকাপে যেন ‘পাগলা ঘোড়া’ এমবাপ্পে—মেসি-রোনালদো যুগ পেরিয়ে নতুন রাজত্বের ইঙ্গিত

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক কিংবদন্তি আছেন, যারা ক্লাব ফুটবলে দাপট দেখালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ঠিক সেই ছাপ রাখতে পারেননি। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও ক্যারিয়ারের বড় একটি সময়জুড়ে এই বাস্তবতা ছিল।

মেসি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেও শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে হার মানতে হয়। অন্যদিকে রোনালদো ২০০৬ থেকে ২০২২—কোনো বিশ্বকাপেই পর্তুগালকে ফাইনালে তো নয়ই, সেমিফাইনালের বাধাও টপকাতে পারেননি। ক্লাব ফুটবলে দুইজনই তখন বিশ্ব শাসন করলেও বিশ্বকাপের ট্রফি ধরা দেয়নি।

এই জায়গাতেই ব্যতিক্রম কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের এই তারকা যেন বিশ্বকাপ এলে অন্য এক রূপে রূপান্তরিত হন—আরও দ্রুত, আরও ক্ষুধার্ত, আরও বিধ্বংসী।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে চার গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পথে বড় ভূমিকা রাখেন এমবাপ্পে। ফাইনালেও গোল করে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা স্পষ্ট করেন তিনি।

এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর নাম। ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে একাই ম্যাচে ফেরান ফ্রান্সকে—যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুটা দারুণ করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি আবারও জানান দিয়েছেন—বিশ্বকাপ মানেই এমবাপ্পের আলাদা মঞ্চ। সেই ম্যাচে তিনি ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও ভাগ বসান।

মাত্র তিনটি বিশ্বকাপেই এমবাপ্পে পৌঁছে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে বহু কিংবদন্তি পৌঁছাতে সময় নিয়েছেন অনেক বেশি। ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সমান আধিপত্য দেখানোর বিরল উদাহরণ তিনি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার মানসিকতা—চাপ যত বেশি, তিনি তত বেশি ভয়ংকর। আর এই কারণেই তাকে অনেকেই বলেন ‘বিশ্বকাপের পাগলা ঘোড়া’—যে ছুটতে শুরু করলে তাকে থামানো প্রায় অসম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত