ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শেষ হলো সেনেগাল বনাম ফ্রান্সের ম্যাচ, মেসিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে

২০২৬ জুন ১৭ ০৬:৩৬:৩৭

শেষ হলো সেনেগাল বনাম ফ্রান্সের ম্যাচ, মেসিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দারুণ সূচনা করেছে ফ্রান্স। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, গড়েছেন একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও।

প্রথমার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। সেনেগাল সংগঠিত ফুটবল খেলে ফ্রান্সকে চাপে রাখে। মাঝমাঠের লড়াইয়ে আফ্রিকান দলটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। এমনকি প্রথম ৪৫ মিনিটে ফরাসিরা লক্ষ্য বরাবর কোনো শটই নিতে পারেনি। বরং বিরতির ঠিক আগে সাদিও মানের পাস থেকে ইসমাইলা সার গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ফ্রান্স ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়। ৫৯তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার পাস থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে অল্প সময়ের মধ্যেই গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আদ্রিয়ান রাবিওর নিখুঁত পাস থেকে জালে বল পাঠিয়ে ফরাসিদের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন তিনি।

তবে সেনেগাল সহজে হার মানেনি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় আফ্রিকান দলটি। কিন্তু সেই আশা টিকেছিল মাত্র এক মিনিট। ইনজুরি টাইমের শেষ দিকে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে এবং ফ্রান্সের ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমবাপে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। মাত্র ৯১ ম্যাচে ৫৮ গোল করে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা হয়েছেন। এর আগে ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন অলিভিয়ের জিরু।

বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন এই ফরাসি তারকা। ১৫ ম্যাচে ১৪ গোল করে তিনি লিওনেল মেসির ১৩ গোলকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন এমবাপের সামনে রয়েছেন কেবল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬ গোল) এবং ব্রাজিলের রোনালদো (১৫ গোল)। সমান ১৪ গোল রয়েছে আরেক জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের।

পরিসংখ্যানেও ফ্রান্সের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল রাখার পাশাপাশি ১২টি শট নেয় তারা, যার ৯টিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সেনেগাল ৬টি শট নিয়ে মাত্র ২টি লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় জয় এবং এমবাপের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েও হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে হলো সেনেগালকে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ