ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পানির দামে সিগারেট পাওয়া যায় যেসব জায়গায়, সবচেয়ে সস্তা কোথায়?

২০২৬ জুন ১১ ১৬:২৯:৩৪

পানির দামে সিগারেট পাওয়া যায় যেসব জায়গায়, সবচেয়ে সস্তা কোথায়?

বিশ্বের অনেক দেশে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের ওপর উচ্চ কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ উন্নত অনেক দেশে এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে গুনতে হয় কয়েক হাজার টাকা। তবে এর সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় বিশ্বের কিছু দেশে, যেখানে পানির দামের মতো কম মূল্যে পাওয়া যায় তামাকজাত পণ্য।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে কম দামে সিগারেট বিক্রি হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে। সেখানে ২০ শলাকার একটি সিগারেট প্যাকেটের গড় দাম প্রায় ০.৩২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৮ থেকে ৪০ টাকার মতো।

লাওসের পাশাপাশি আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এসব দেশের মধ্যে মালাউই, বেনিন ও মালি অন্যতম। জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়া, তামাক উৎপাদনের সুযোগ এবং তুলনামূলক দুর্বল কর ব্যবস্থার কারণে এসব দেশে সিগারেটের দাম কম রয়েছে।

বিশ্বের যেসব দেশে সিগারেট সবচেয়ে সস্তা

লাওস:বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা সিগারেটের বাজার হিসেবে পরিচিত লাওসে ২০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম প্রায় ৪০ টাকার কাছাকাছি।

মালাউই:আফ্রিকার এই দেশে এক প্যাকেট সিগারেটের দাম প্রায় ০.৮৯ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৫ টাকার সমান।

বেনিন ও মালি:পশ্চিম আফ্রিকার এই দুই দেশে সিগারেটের দাম যথাক্রমে প্রায় ০.৯১ ও ০.৯২ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১২০ টাকার মতো।

ভিয়েতনাম:এশিয়ার অন্যতম সস্তা বাজার ভিয়েতনামে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে খরচ হয় প্রায় ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা।

পাকিস্তান:দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে এক প্যাকেট সিগারেটের গড় দাম প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা।

লাওসে এত কম দামে সিগারেট পাওয়া যায় কেন?

লাওসে সিগারেটের দাম কম থাকার পেছনে রয়েছে দেশটির তামাক কর নীতি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির তামাক শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও তুলনামূলক কম করহার সিগারেটের দাম কম রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী, তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর উচ্চ কর আরোপ করলে ধূমপানের প্রবণতা কমানো সম্ভব। কিন্তু লাওসসহ কিছু দেশে কর কাঠামো তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারে সিগারেট সহজলভ্য রয়েছে।

সিগারেটের দাম কম হওয়ার পেছনের কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে কিছু দেশে সিগারেটের দাম কম থাকে।

প্রথমত, এসব দেশে তামাকের ওপর কর তুলনামূলক কম। দ্বিতীয়ত, স্থানীয়ভাবে তামাক উৎপাদন হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম পড়ে। এছাড়া কিছু সরকার মনে করে, অতিরিক্ত কর বাড়ালে অবৈধ সিগারেটের বাজার বাড়তে পারে।

তবে কম দামের সিগারেট জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। সহজলভ্য হওয়ার কারণে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাকের ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা। গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের দাম বাড়লে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমে আসে।

অর্থাৎ সিগারেট সস্তা হওয়া কোনো দেশের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্য খাত ও মানুষের জীবনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত