ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সোনার বাজারে ধস! ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নামল স্বর্ণ

২০২৬ জুন ১১ ১০:০১:৩২

সোনার বাজারে ধস! ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নামল স্বর্ণ

বিশ্ববাজারে আবারও বড় পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর এবারই প্রথম এত কম দামে লেনদেন হচ্ছে সোনা।

স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। ফলে স্বর্ণবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা সোনার বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

সাধারণত বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে উচ্চ সুদের হার সোনার বাজারে চাপ তৈরি করছে। কারণ সোনা কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না। ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য খাতে অর্থ বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আরও দীর্ঘ সময় বর্তমান অবস্থানে রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আর এই সম্ভাবনাই সোনার দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে, যা সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দামও কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম উল্টো ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে সোনার দামের গতিপথ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত