ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপের বলেই থাকছে যে সকল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বদলে যাবে VAR সিদ্ধান্তের ধরন

২০২৬ মে ২৬ ১৬:৫০:১৪

২০২৬ বিশ্বকাপের বলেই থাকছে যে সকল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বদলে যাবে VAR সিদ্ধান্তের ধরন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Adidas বিশ্বকাপের জন্য বিশেষ এই বল তৈরি করেছে, যেখানে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ফুটবলের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে হবে এই আসর।

তিন আয়োজক দেশকে সম্মান জানিয়ে বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে নীল, লাল ও সবুজ রং। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর ভেতরে থাকা প্রযুক্তি। নতুন এই বলে রয়েছে ডিপ-সিম প্রযুক্তি এবং ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর, যা ভিএআর সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বকাপের এই বলের ভেতরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক একটি সেন্সর চিপ। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম। ফলে বল কখন কোথায় যাচ্ছে, কত গতিতে চলছে কিংবা কোন খেলোয়াড় সেটিকে স্পর্শ করছে—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যাবে। এতে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা গোললাইন প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বলটির সেন্সরের ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। প্রযুক্তি যুক্ত হলেও বলের স্বাভাবিক গতি, ওজন বা বাউন্সে কোনো পরিবর্তন না আসে, সেটিও নিশ্চিত করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বলটির পাওয়ার সিস্টেম। ম্যাচ শুরুর আগে সেন্সরটি চার্জ করতে হবে এবং একবার পূর্ণ চার্জ হলে সেটি টানা প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার আগেও ছিল, তবে এবার সেটিকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ম্যাচ পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কমিয়ে এনে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল ফুটবল উপহার দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা ও অ্যাডিডাস।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ