ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রেমের গুঞ্জন থেকে পরিণয়—অবশেষে এক হলেন রাশমিকা ও বিজয়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:১৮:২৭

প্রেমের গুঞ্জন থেকে পরিণয়—অবশেষে এক হলেন রাশমিকা ও বিজয়

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় দুই তারকা—রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুর–এ পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে। রাজকীয় স্থাপত্য, লেকঘেরা প্রকৃতি, ঐতিহ্যবাহী আচার আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে আয়োজনটি ছিল রূপকথার মতো।

তেলেগু আচার থেকে কোডাভা ঐতিহ্য

বৃহস্পতিবার ভোরে তেলেগু রীতি অনুযায়ী গণেশপূজা ও মঙ্গলাচরণ দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সম্পন্ন হয় ‘সপ্তপদী’—দাম্পত্য জীবনের সাতটি অঙ্গীকারের প্রতীকী পদক্ষেপ। মালাবদল, কন্যাদান ও আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সকালের পর্ব। প্রবীণরা নবদম্পতির কপালে কুমকুম ও হলুদ ছুঁইয়ে আশীর্বাদ জানান।

বিকেলে আয়োজন করা হয় কোডাভা রীতি অনুযায়ী দ্বিতীয় পর্ব। কর্ণাটকের কোডাগু অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুসারে পোশাক, সংগীত ও পারিবারিক আচার গুরুত্ব পায়। কনের পারিবারিক শিকড়কে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ আয়োজন।

পোশাকে ঐতিহ্যের জৌলুস

বিয়ের আসরে রাশমিকার পরনে ছিল মরচে-কমলারঙা সোনালি পাড়ের শাড়ি ও ভারী সোনালি কাজের ব্লাউজ। বহুস্তর হার, বাহুবন্ধ, মাঙ্গটিকা ও ঝুমকায় সম্পূর্ণ হয় সাজ। খোলা চুলে জুঁই ফুলের মালা এনে দেয় দক্ষিণি ঐতিহ্যের ছোঁয়া। তাঁর বিয়ের পোশাকটি ডিজাইন করেছেন খ্যাতনামা ডিজাইনার অনামিকা খান্না।

অন্যদিকে বিজয়ের পরনে ছিল আইভরি রঙের ধুতি–শৈলীর পোশাক ও গাঢ় সিঁদুররঙা অঙ্গবস্ত্র, যাতে সূক্ষ্ম সূচিকর্মে ফুটে উঠেছিল অরণ্য ও মন্দিরের নকশা।

কলাপাতায় ভোজ, পানীয়তে ডাবের পানি

অতিথিদের আপ্যায়নে ছিল পুরো দক্ষিণ ভারতীয় ধাঁচ। কলাপাতায় পরিবেশন করা হয় ভাত, সাম্বর, রসম, সবজি, কারি ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কলাপাতার নির্দিষ্ট অংশে সাজানো হয় পদগুলো।

পানীয় হিসেবে পরিবেশন করা হয় ডাবের পানি—যা সতেজতার পাশাপাশি শুভতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। কনের পরিবার থেকে বরের পরিবারকে উপহার দেওয়া হয় নারকেল, পানপাতা, ফল, মিষ্টি, হলুদ ও কুমকুম। বরের মা নববধূর হাতে বংশপরম্পরায় পাওয়া সোনার চুড়ি পরিয়ে দেন, যা তাঁকে দেবরাকোন্ডা পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতীক।

প্রাক্-বিবাহ আয়োজনে তারুণ্যের ছোঁয়া

গায়েহলুদে প্রাধান্য পায় হলুদ-কমলা ফুলের সাজ। সন্ধ্যায় সংগীতানুষ্ঠানে গান ও নাচে মাতেন পরিবার ও বন্ধুরা। বিশেষ চমক হিসেবে রাশমিকা নাচ পরিবেশন করেন ‘অঙ্গারোঁ’ গানে। ছিল পুল পার্টি, ওয়াটার ভলিবল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ ‘বিরশ প্রিমিয়ার লিগ’।

প্রেম থেকে পরিণয়

রাশমিকা ও বিজয়ের প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় গীত গোবিন্দম ছবির সেট থেকে। পরে ডিয়ার কমরেড–এ তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক নিয়ে নীরব থাকলেও অবশেষে সেই প্রেম পেল পরিণয়।

বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে যায় নবদম্পতির টাইমলাইন। ভক্তদের দেওয়া নাম ‘বিরশ’ এখন আনুষ্ঠানিক পরিচয়। উদয়পুরের আকাশের নিচে, পরিবার-পরিজনের আশীর্বাদে শুরু হলো তাঁদের নতুন জীবন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত