ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন!

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৬:৩১:৫১

নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন!

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণে শুধু গ্রেড নয়, বরং আয়, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিভিন্ন স্তরের চাকরিজীবীদের বাস্তব প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন প্রস্তাবে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খসড়া সুপারিশে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ৫ম গ্রেডে ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদা নীতিতে নির্ধারণ করা হবে।

সরকারি বেতন কাঠামো নিয়ে পরিচালিত একটি বড় জরিপের ফলাফলও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এতে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে এবং ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেশি সুবিধার পক্ষে মত দিয়েছেন।

জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় গড়ে ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হলেও সচিব কমিটি তা দেড় লাখ টাকায় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাতও বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৫ করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতাসহ প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে। পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুফল পেতে পারেন নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত