ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

১৩ কর্নার, ৩০ ফাউল; ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা

২০২৬ জুন ১৩ ০৫:৫২:২৬

১৩ কর্নার, ৩০ ফাউল; ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু প্রতীক্ষিত এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো কানাডা। টরেন্টোর গ্যালারিজুড়ে লাল জার্সিধারী হাজারো সমর্থকের সামনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করেছে উত্তর আমেরিকার দলটি।

এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল কানাডা। অবশেষে সেই হতাশার অধ্যায়ের ইতি টেনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই লড়াই ছিল সমানে সমান। তবে প্রথম আঘাত হানে বসনিয়া। ২১তম মিনিটে কর্নার কিক থেকে আসা বল হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ইয়োভো লুকিচ। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের প্রতিনিধিরা।

গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও প্রথমার্ধে পাওয়া ৯টি কর্নারের একটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অন্যদিকে বসনিয়া নিজেদের রক্ষণভাগ শক্ত রেখে ব্যবধান ধরে রাখে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলই সংগ্রাম করলেও শারীরিক লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলে ৩০টি ফাউল করে, যা খেলার ছন্দকে বারবার ব্যাহত করেছে।

৫৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বসনিয়া। তবে স্ট্রাইকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। আর সেই মিসের মূল্যও দিতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে কানাডা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে প্রমিজ ডেভিডের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিক পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত ভলি শটে গোল করেন কাইল লারিন। গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের কোনো সুযোগ ছিল না সেই শট ঠেকানোর।

শেষদিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। একাধিক আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও ম্যাচটি ছিল ব্যতিক্রমী। কানাডা বল দখলে আধিপত্য দেখালেও বসনিয়া রক্ষণে অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করে। পুরো ম্যাচে ৭১ বার বল ক্লিয়ার করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেয় তারা। অন্যদিকে কানাডা পায় মোট ১৩টি কর্নার, যা ম্যাচজুড়ে তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রমাণ বহন করে।

জয় না পেলেও এই ড্র কানাডার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের প্রথম অর্জিত পয়েন্ট। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া হওয়ায় কিছুটা হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ