ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

একটি কারনে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের হু‘মকি ইরানের

২০২৬ জুন ১২ ১৬:৫৯:৫৪

একটি কারনে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের হু‘মকি ইরানের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের বাঁশি বাজার আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর নানা হুমকিতে বিশ্বমঞ্চের আবহ রূপ নিয়েছে এক জ্বলন্ত বারুদখণ্ডে। ইরান সরকারের তরফ থেকে এবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে (FIFA) এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, গ্যালারিতে যদি ইরানের ‘অফিশিয়াল’ বা সরকারি পতাকা ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত পতাকা ওড়ানো হয় কিংবা জাতীয় দলকে লক্ষ্য করে কোনো অপমানজনক স্লোগান দেওয়া হয়, তবে পারসিয়ানরা মাঠের মাঝখানেই খেলা বন্ধ করে চলে যাবে!

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি সরাসরি ফিফাকে এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, "আমরা ফিফাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছি, বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ চলার সময় স্টেডিয়ামে যদি কোনো অননুমোদিত পতাকা প্রদর্শন বা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়, তবে দলের ম্যানেজার নিশ্চিতভাবেই ম্যাচ থামিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন।" টুর্নামেন্টে ইরানের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ও রাজনৈতিক ম্যাচ হতে যাওয়া মিশরের বিপক্ষের লড়াইটি নিয়ে অবশ্য ক্রীড়ামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, তারা নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্টেডিয়ামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।

সিয়াটলের ‘প্রাইড ম্যাচ’ ও ইরান-মিশরের যৌথ চাপ:কেবল পতাকা বা স্লোগান বিতর্কই নয়, আমেরিকার মাটিতে সমকামিতার প্রচার রুখতেও মিশরের সাথে একজোট হয়ে ফিফাকে চরম চাপে ফেলেছে ইরান। আগামী ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইরান ও মিশর। কাকতালীয়ভাবে সেই সপ্তাহটি সিয়াটলের স্থানীয় সমকামী সম্প্রদায়ের ‘প্রাইড উইকেন্ড’ হওয়ায় স্থানীয় আয়োজক কমিটি (SeattleFWC26) এই ম্যাচটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

কিন্তু কট্টরপন্থী দেশ ইরান এবং মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ফিফার ওপর চড়াও হয়ে দাবি করেছে, এই ম্যাচে যেন কোনোভাবেই সমকামিতা বা রংধনু রঙা কোনো কার্যক্রম বা প্রচারের অনুমতি না দেওয়া হয়। এটি ফিফার নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করে বলেও তারা দাবি তুলেছে।

টিকিট বাতিল ও সমর্থকদের ক্ষোভ:মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে ইরান দল যেন চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ। এর আগে গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসের বাইরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, এই দলটি সাধারণ ইরানি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর পুতুল।

এই রাজনৈতিক ডামাডোলের জের ধরে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দকৃত সব টিকিট আকস্মিকভাবে বাতিল বা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব ইরানি সমর্থক হাজার হাজার টাকা খরচ করে আমেরিকায় খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং ট্রিপ বুক করেছিলেন, তাঁরা এখন স্টেডিয়ামের বাইরেই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। ফুটবল ও ভূ-রাজনীতির এমন নজিরবিহীন সংঘাতের জেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো এখন বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ