ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুটবল ফাইনালে রণক্ষেত্র: ফুটবল ম্যাচে ভ“য়া‘বহ স‘হিংসতা, আ‘হত অন্তত ৫৯

২০২৫ ডিসেম্বর ১৯ ১৭:৩৭:১৯

ফুটবল ফাইনালে রণক্ষেত্র: ফুটবল ম্যাচে ভ“য়া‘বহ স‘হিংসতা, আ‘হত অন্তত ৫৯

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং অনেক সময় সহিংসতা। এবার সেই চেনা দৃশ্য আরও ভয়াবহ রূপ নিল কলম্বিয়ায়। দেশটির মেডেলিন শহরে অনুষ্ঠিত কলম্বিয়া কাপ ফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এই সহিংসতায় কমপক্ষে ৫৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

বুধবার রাতে কলম্বিয়া কাপ ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকো নাসিওনাল ১–০ গোলে দেপোর্তিভো ইন্ডেপেনদিয়েন্তে মেডেলিনকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে। কিন্তু রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় দলের সমর্থকদের একাংশ গ্যালারি ছেড়ে মাঠে নেমে আসে এবং শুরু হয় সংঘর্ষ।

মাঠে ঢুকে পড়ে সমর্থকরা, আতশবাজি ও আগুন

ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, সমর্থকদের হাতে ফ্লেয়ার, আতশবাজি ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মাঠে নামে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। আহতদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সহিংসতায় এস্তাদিও আতানাসিও গিরার্দোত স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু আসন ভেঙে ফেলা হয়, মাঠের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে আতশবাজির ধোঁয়ার কারণে প্রায় ১৪ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষের কড়া বার্তা

মেডেলিনের মেয়র ফেদেরিকো গুতিয়েরেস এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুরো শহর ও ক্রীড়াঙ্গনের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কলম্বিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে পুলিশ কমান্ডার উইলিয়াম কাস্তানো জানান, স্টেডিয়াম থেকে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল অস্ত্র, ফ্লেয়ার ও ১২০ কেজির বেশি পাইরোটেকনিক দ্রব্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তা নীতিতে ব্যতিক্রমই কাল হলো

সাধারণত কলম্বিয়ায় বড় ম্যাচগুলোতে সহিংসতা এড়াতে সফরকারী দলের সমর্থকদের মাঠে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে ফুটবলে শান্তির বার্তা দিতে এই ফাইনালে দুই দলের সমর্থকদেরই স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। বাস্তবে সেটিই ভয়াবহ সহিংসতার পথ খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ