ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘অবৈধ খেলোয়াড়’ খেলানোর অভিযোগ, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ছে জনপ্রিয় দল

২০২৫ ডিসেম্বর ১৮ ১৩:০৮:৫৭

‘অবৈধ খেলোয়াড়’ খেলানোর অভিযোগ, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ছে জনপ্রিয় দল

আসন্ন বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো)। আফ্রিকান প্লে-অফে পরাজয়ের পর নতুন করে আশার আলো খুঁজতে গিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। অভিযোগের মূল কথা—ডিআর কঙ্গো নাকি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাধিক ‘অযোগ্য’ বা নিয়মবহির্ভূত খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে।

গত মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান প্লে-অফ ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। এই প্লে-অফ থেকেই কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের শেষ দুটি টিকিট নির্ধারিত হওয়ার কথা। তবে ম্যাচের ফল মেনে নিতে না পেরে এবার আইনি পথে হাঁটছে নাইজেরিয়া।

নাইজেরিয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কয়েকজন খেলোয়াড়, যারা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। বিশেষ করে অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবের নাম সামনে এসেছে। নাইজেরিয়ার দাবি, ডিআর কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই, অথচ এই দুই ফুটবলার ইউরোপীয় ও ফরাসি পাসপোর্টধারী। সে কারণে তারা আইনগতভাবে কঙ্গোর হয়ে খেলার যোগ্য নন।

এনএফএফের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, ফিফার কাছে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে এসব খেলোয়াড়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করেন। নাইজেরিয়ার মতে, এটি শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়, বরং প্রতারণার শামিল। তারা এ সংক্রান্ত নথিপত্র ও আইনি ব্যাখ্যাসহ অভিযোগ ফিফার কাছে জমা দিয়েছে।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা) অভিযোগটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, মাঠের খেলায় হারার পর আইনের ফাঁক খুঁজে ম্যাচের ফল বদলানোর চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তারা নাইজেরিয়াকে ‘খারাপ পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে জানায়, বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে আইনজীবীর কৌশল নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই আসল।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের সুযোগ পান এবং সেটি ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ। ফিফা একাধিক পাসপোর্ট রাখায় বাধা না দিলেও, সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় আইন এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এখানেই মূল দ্বন্দ্ব—ডিআর কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ।

ফিফা অভিযোগটি গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রমাণ দুর্বল হলে অভিযোগ বাতিল হয়ে যেতে পারে। আবার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি প্রমাণিত হলে জরিমানা বা সতর্কবার্তাও দেওয়া হতে পারে। সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে ম্যাচের ফল পরিবর্তন, পয়েন্ট কর্তন বা বিশ্বকাপ দৌড় থেকেই বাদ পড়ার মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

এর আগে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে বিভিন্ন দেশকে শাস্তির নজির রয়েছে। ফলে নাইজেরিয়ার অভিযোগ হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এখন সবকিছু নির্ভর করছে ফিফার তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে—এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ