ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্যায় ফের ডুবল ফেনী, সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান শুরু, ভয়াবহ অবস্থায় লক্ষাধিক মানুষ

MD: Maruf Hosen
MD: Maruf Hosen

Senior Reporter

২০২৫ জুলাই ১০ ২০:৪৫:৫১

বন্যায় ফের ডুবল ফেনী, সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান শুরু, ভয়াবহ অবস্থায় লক্ষাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও তলিয়ে গেছে ফেনী জেলার একাধিক এলাকা। পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নতুন নতুন এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৫৫টি গ্রাম।

মুহুরী, কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীরবর্তী অন্তত ২১টি পয়েন্টে বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।

তীব্র স্রোত আর দুর্ভোগের বর্ণনাদক্ষিণ সত্রা এলাকার বাসিন্দা রাবিউল হাসান বলেন, “রাতে পানি ঢুকতে শুরু করল আর সকাল হতেই ঘর ডুবে গেল। যা গতবার হয়েছে, এবারও তারই পুনরাবৃত্তি।”ফুলগাজীর আনন্দপুর এলাকার মোহাইমিন তাজিম বলেন, “আমরা আবারও অসহায়। পানি এত দ্রুত বাড়ছে যে কিছুই বাঁচাতে পারিনি।”

সংযোগ বিচ্ছিন্ন, খাবারের সংকটবন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে অনেক এলাকায়। ছাগলনাইয়ার জহিরুল ইসলাম জানান, এখনো পর্যন্ত কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি, শুকনো খাবার তো দূরের কথা। “পানিতে ডুবে আছে বিদ্যুতের মিটার, সাবস্টেশন। পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে।”

বাঁধ রক্ষায় অবহেলা ও জনগণের ক্ষোভস্থানীয়রা বারবার অভিযোগ করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণেই প্রতিবছর এই দুর্ভোগ হচ্ছে। ১০টি পয়েন্টে মুহুরী, ৬টি পয়েন্টে কুহুয়া ও ৫টি পয়েন্টে সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙেছে।

সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান শুরুবৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। স্পিডবোট ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার এবং পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি উপজেলায় ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাজারো পরিবারপরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানি নামলে ধাপে ধাপে মেরামত করে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিজিএম মো. সোহেল আকতার।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৬৩.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রতিদিনের মতোই বছরের পর বছর দুর্ভোগে জর্জরিত ফেনীর মানুষ আজও সরকারি অব্যবস্থাপনার শিকার। দ্রুত পানি না নামলে এবং সঠিক ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই দুর্যোগ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

M / R

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ