ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

“নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পারলাম…”

২০২৩ এপ্রিল ১৫ ১০:৪৭:২১

“নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পারলাম…”

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের গত আসরে পারফর্ম্যান্স আশানুরুপ না হওয়ায় প্রায় গোটা স্কোয়াডের ভোল বদলে ফেলেছিলো আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল সানরাইজার্স। তবুও চলতি আইপিএলের শুরুটা ভালো হয় নি তাদের। প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া হারের ধাক্কা সইতে হয়েছিলো ‘অরেঞ্জ আর্মি’কে।

সেই ম্যাচ পরাজয়ের গ্লানি মুছে এবার আলোয় ফেরার লড়াইতে এইডেন মার্করামরা। নিজেদের ঘরের মাঠে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে মরসুমের প্রথম জয় পেয়েছিলেন। আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নাইট রাইডার্সকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো তারা। চলতি এই আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল কলকাতার বিরুধে ২৩ রানের ব্যবধানে জয়ের ফলে লীগ তালিকায় ৭ নম্বরে উঠে এলো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

এই দিন টসে জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানা। মায়াঙ্ক আগরওয়ালের সঙ্গী হিসেবে ওপেনিং আজ পাঠানো হয়েছিলো হ্যার ব্রুককে। ইংল্যান্ডের তরুণ ক্রিকেটারকে দিয়ে ইনিংসের সূচনা করার স্ট্র্যাটেজি আজ কাজ করলো ইডেনে। ক্রিকেটের নন্দনকাননে ব্রুক ঝড় উঠতে দেখা গেলো আজ। আইপিএলের ষোড়শ মরসুমের প্রথম শতরান করলেন তিনি। ৫৫ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ব্রুকের পাশাপাশি এইডেন মার্করামের ঝোড়ো অর্ধশতক, অভিষেক শর্মা, হেনরিখ ক্লাসেনদের কার্যকরী ক্যামিও ইনিংস সানরাইজার্সের স্কোর পৌঁছে দেয় ২২৮ রানে।

রান তাড়া করতে নেমে নীতিশ রানা, রিঙ্কু সিংদের প্রত্যাঘাত সত্ত্বেও ২০৫-এর বেশী এগোতে পারে নি কলকাতা। অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতেই মাঠ ছাড়ে সানরাইজার্স। দুর্দান্ত শতরানের সুবাদে ম্যাচের সেরা হিসেবে হ্যারি ব্রুককেই বেছে নেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে পিএসএলের মত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে সাফল্য পেয়েছেন ব্রুক, আইপিএলের প্রথম মরসুমেই শতরানের মাইলফলক ছুঁয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ডের তরুণ।

১৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে হ্যারি ব্রুককে দিলে নিয়েছিলো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। গত ২৩ ডিসেম্বরের মিনি নিলামে রাজস্থান রয়্যালসের সাথে দীর্ঘ দড়ি টানাটানির পর ইংল্যান্ডের প্রতিভাবান ব্যাটারকে অরেঞ্জ আর্মির অংশ করতে সক্ষম হয়েছিলো কাব্য মারানরা। যে বিপুল অর্থ তাঁর পেছনে খরচ করা হয়েছিলো, সেই অনুযায়ী প্রথম কয়েকটি ম্যাচে পারফর্ম করতে পারেন নি হ্যারি। প্রথম ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে তিনি করেন ১৩ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে লক্ষ্ণৌর বিরুদ্ধে করেন ১৩ রান। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে দল জিতলেও হ্যারির পারফর্ম্যান্স এসেছিলো আতসকাঁচের নীচে। আজ নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করলেন তিনি। করলেন চমকপ্রদ শতরান। ম্যাচ শেষে ব্রুকের প্রথম প্রতিক্রিয়া, “বিশেষ একটা রাত। সৌভাগ্যক্রমে শেষমেশ জয় এসেছে। মাঝে চাপে পড়ে গিয়েছিলাম।”

প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে চার ও পাঁচ নম্বরে ব্যাট করলেও তাঁকে ওপেনিং-এ ব্যবহারের পথে হেঁটেছেন কোচ ব্রায়ান লারা। জায়গা বদল নিয়ে ব্রুক জানালেন, “অনেকেই বলেন যে টি-২০তে ব্যাট করার সেরা জায়গা হলো ওপেনিং। আমি যে কোনো জায়গায় ব্যাট করার সুযোগ পেলেই খুশি। পাঁচ নম্বরে অনেক সাফল্য পেয়েছি। যাবতীয় স্বীকৃতি পাঁচ নম্বরে খেলেই আদায় করেছি।” আজকের শতরান যে তাঁর কাছে স্পেশ্যাল, তাও বলেন তিনি। সঞ্চালক হর্ষ ভোগলেকে বলেন, “আমার চারটে টেস্ট শতরানের পরেই রাখবো এটাকে।”

ইডেনের বাইশ গজ আজ ব্যাট হাতে মাতিয়েছেন ব্রুক। কল্লোলিনী কলকাতার দর্শকদের মনে ধরেছে ইংরেজ তারকার। ইডেনের দর্শকের তারিফ করে তিনি বলেন, “মাঠে আজ পরিবেশ দুর্দান্ত ছিলো। খুব উপভোগ করেছি। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে তিনি যে তৃপ্ত তা জানাতেও ভোলেন নি তিনি। বলেন, “নিজের ওপর খানিক মানসিক চাপ দিয়ে ফেলেছিলাম। সমাজমাধ্যমে চোখ বোলালেই দেখতে হচ্ছিলো মানুষজন আমার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আজকে অনেক ভারতীয় ফ্যানেরা শুভেচ্ছা জানাবেন, কিন্তু দিনকয়েক আগে তাঁরাই আমায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সত্যি বলতে নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পেরে খুশিই হয়েছি।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ