ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যত কোটি টাকা পেলো

২০২৬ জুলাই ০৬ ০৮:৫২:০০

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যত কোটি টাকা পেলো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন শেষ ষোলোর গণ্ডিতেই ভেঙে গেছে ব্রাজিলের। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের ফলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলেও আর্থিক দিক থেকে মোটেও খালি হাতে ফিরছে না সেলেসাওরা। ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানোর সুবাদে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে।

ফিফার ঘোষিত পুরস্কার নীতিমালা অনুযায়ী, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি জাতীয় দলকে আরও ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থের মধ্যে ১৫ লাখ ডলার দলগুলোর প্রস্তুতি ও ক্যাম্প পরিচালনার ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের প্রাপ্য দাঁড়াচ্ছে ২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি মার্কিন ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ধরে) এর পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ মাঠের হতাশা থাকলেও আর্থিকভাবে বড় ধরনের প্রাপ্তি নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করছে ব্রাজিল।

২০২৬ বিশ্বকাপে পুরস্কারের পরিমাণ আগের যেকোনো আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ফিফা। এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাইজমানি সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ।

চ্যাম্পিয়ন দল এবার পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭২০ কোটি টাকার সমান। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে আনুমানিক ৪১৮ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দল পাবে প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর জন্য রয়েছে প্রায় ২৭৪ কোটি টাকার পুরস্কার। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে প্রায় ২১৬ কোটি টাকা, গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করা কিন্তু পরবর্তী ধাপে না ওঠা দলগুলোর জন্য রয়েছে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা এবং টুর্নামেন্টের নিচের সারিতে থাকা দলগুলোর জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক পুরস্কার।

বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও এই বিপুল অর্থ ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণ ফুটবলার তৈরির প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এই অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। ফলে মাঠে ব্যর্থতার আক্ষেপ থাকলেও আর্থিক দিক থেকে বিশ্বকাপ ব্রাজিলের জন্য লাভজনকই হয়ে থাকল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ