ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ৩২ নতুন রেকর্ড, একাই ৮ কীর্তির মালিক লিওনেল মেসি

২০২৬ জুন ২৯ ০৮:৪১:৫১

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ৩২ নতুন রেকর্ড, একাই ৮ কীর্তির মালিক লিওনেল মেসি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য নতুন রেকর্ড। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই গড়ে উঠেছে অন্তত ৩২টি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড, যার মধ্যে একাই আটটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অভিজ্ঞ এই তারকার পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি জয় এবং সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ড এখন মেসির দখলে। এবারের আসরে ছয়টি গোল যোগ করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯-এ। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং জয় পেয়েছেন ১৯টিতে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২,৪৯০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তিও এখন তার।

মেসি আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে। এর মাধ্যমে তিনি জাইরজিনহো ও জুস্ত ফন্টেইনের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছেন। এছাড়া গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট অবদান এখন ২৭টি, যা পেলের ২১ অবদানের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তবে সব রেকর্ডই সুখকর নয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তিনটি পেনাল্টি মিস করা খেলোয়াড়ের তালিকাতেও উঠে এসেছেন মেসি।

অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেছেন। মেসির সঙ্গে তিনিও প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। এছাড়া টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় এখন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচও নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি এখন তার। একইভাবে ইংল্যান্ডের জর্ডান হেন্ডারসন দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ এবং সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।

কোচদের মধ্যেও নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সকে নিয়ে দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। একই সঙ্গে টানা চারটি বিশ্বকাপে একই দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিরল কীর্তিও স্পর্শ করেছেন তিনি। ইরানের কোচ কার্লোস কুইরোজ পঞ্চম বিশ্বকাপে কোচিং করিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

সবচেয়ে প্রবীণ কোচ হিসেবেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কুরাসাওয়ের কোচ ডিক অ্যাডভোকাত ৭৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে দল পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে জয় পাওয়া কোচ হিসেবে নতুন রেকর্ডের মালিক হয়েছেন।

গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্সও ছিল আলোচনায়। কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনহা ৪০ বছর বয়সের পর একাধিক ক্লিন শিট রেখে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে কুরাসাওয়ের এলোয় রুম নির্ধারিত সময়ে এক ম্যাচে ১৫টি সেভ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্পেনের বিপক্ষে উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার ভুলে গোল হজমের ঘটনাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক রেকর্ড হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ জোড়া সহোদর ফুটবলার একই আসরে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রোবি এবং ঘানার ডেরিক লুকাশেন দুই ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করে নতুন ইতিহাস লিখেছেন।

নবাগত কেপ ভার্দেও ইতিহাস গড়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ এখন তারা। তিনটি ম্যাচেই ড্র করে পরের রাউন্ডে উঠে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম দল হিসেবে জয় ছাড়াই নকআউট নিশ্চিত করার নজির স্থাপন করেছে কেপ ভার্দে।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তার ১১ গোলের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে পেনাল্টি থেকে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি নতুন রেকর্ড। একই সময়ে ঘানার বিপক্ষে প্রায় ৭৯ শতাংশ বল দখলে রেখেও গোল করতে না পারা ইংল্যান্ডও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছে।

আফ্রিকার প্রতিনিধিদের মধ্যেও ইতিহাস তৈরি করেছে সেনেগাল। গ্রুপ পর্বে আট গোল করে বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে তারা। পাশাপাশি ইলিমান এনদিয়ায়ে বদলি হিসেবে নেমে একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট, একাধিক সফল ড্রিবল ও বক্সে সর্বোচ্চ স্পর্শের বিরল কীর্তি গড়েছেন।

বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকুও জায়গা করে নিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। মাত্র পাঁচবার বল স্পর্শ করেই এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করার নজির গড়ে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন।

রেফারিংয়েও এসেছে নতুন মাইলফলক। অস্ট্রেলিয়ার আলিরেজা ফাগানি এবং আর্জেন্টিনার সহকারী রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাত্তি চারটি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করে নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যই নয়, অসংখ্য ঐতিহাসিক রেকর্ডের কারণেও ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। আর সেই রেকর্ডের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে আরও একাধিক মাইলফলক যোগ করলেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ