ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

মেসির এক মন্তব্যেই নতুন আলোচনা

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ জুন ২৫ ১৭:৩০:৫৯

মেসির এক মন্তব্যেই নতুন আলোচনা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি Lionel Messi। বয়স ৩৯-এর কাছাকাছি পৌঁছালেও মাঠে তার পারফরম্যান্স দেখে তা বোঝার উপায় নেই। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তার গোল কিংবা রেকর্ড নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে দেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য।

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছেন মেসি। একই সময়ে তিনি মাঠেও দেখিয়ে চলেছেন অসাধারণ নৈপুণ্য। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে একের পর এক গোল করে তিনি নিজের নামের পাশে আরও কিছু অনন্য রেকর্ড যোগ করেছেন। এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—এত অর্জনের পরও তার প্রেরণার উৎস কী এবং ভবিষ্যতে আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কতটা?

প্রশ্নের উত্তরে মেসি জানান, তিনি খুব বেশি দূরের কথা ভাবেন না। তার মনোযোগ থাকে বর্তমানের ওপর এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আলোচনার মোড় ঘুরে যায় যখন তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। কয়েক মাস আগেও যেখানে তিনি এমন সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এবার তিনি সরাসরি না বলে মন্তব্য করেন, “পরে দেখা যাবে কী হয়।”

এই ছোট্ট উত্তরই ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কারণ মেসির মতো একজন খেলোয়াড় যখন কোনো সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করেন না, তখন সমর্থকদের কল্পনা আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, যদি তার শারীরিক সক্ষমতা এবং বর্তমান ফর্ম বজায় থাকে, তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে আবারও দেখা অসম্ভব নয়।

বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দেয়। ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় মেসির বয়স ৪৩ বছরের কাছাকাছি হবে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেই বয়স পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে খেলা অত্যন্ত কঠিন। তবুও ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে ব্যতিক্রমী খেলোয়াড়রা বয়সকে হার মানিয়ে দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেছেন।

মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি খুব কম ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর কিংবা বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রশ্নেও তিনি বরাবরই সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকে সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।

এ মুহূর্তে অবশ্য মেসির পুরো মনোযোগ ২০২৬ বিশ্বকাপেই। আর্জেন্টিনাকে আরও একবার শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে নেওয়া এবং নিজের অসাধারণ ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করাই তার প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এক লাইনের মন্তব্য ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জল্পনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত