| ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

শাবানার জন্মদিনে শাকিব খান আক্ষেপ করলেও জানালেন কৃতজ্ঞতা

২০২১ জুন ১৫ ১৯:২৭:৫৮
শাবানার জন্মদিনে শাকিব খান আক্ষেপ করলেও জানালেন কৃতজ্ঞতা

দুই দশক ধরে ঢাকায় সিনেমায় রাজত্ব করছেন দেশের অন্যতম নায়ক শাকিব খান। এখনও রয়েছেন সেই আসনে। আজ তিনিই কী না মুখফুটে বললেন নিজের দুর্ভাগ্যের কথা!

অকপটে বললেন, ‘এটা আমার দুর্ভাগ্য, আমি চলচ্চিত্রে আসার আগেই তিনি অভিনয় ছাড়েন।’ আর এই ‘তিনি’ হচ্ছেন দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। যিনি দীর্ঘদিন নিজেকে আড়ালে রেখেছেন চলচ্চিত্র থেকে। ভালো আছেন দূর পরবাসে। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে (১৫ জুন) চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

দিনটিকে উপলক্ষ করে শাকিব খান যেমন আক্ষেপ করলেন সহশিল্পী হিসেবে শাবানাকে না পাওয়া নিয়ে, তেমনি কৃতজ্ঞতা জানালেন অভিনেত্রীকে অভিভাবক হিসেবে পেয়ে।

শাকিব খান বলেন, ‘এটা ভেবেও প্রশান্তি পাই, চলচ্চিত্রে তাকে না পেলেও ব্যক্তি জীবনে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যোজন যোজন দূরে আছেন বটে, কিন্তু এখনও খোঁজ খবর রাখেন। জানতে চান চলচ্চিত্রের হালচাল।’

এই নায়ক মনে করেন, শাবানা এমন একজন অভিনেত্রী যাকে দেখলেই বাঙালি মায়ের যে শাশ্বত রূপ- সেরকম অনুভূত হয় দর্শক মনে।

শাবানা ভক্ত শাকিব খান বলেন, ‘যখন সাধারণ দর্শক হিসেবে তাকে পর্দায় দেখতাম, কী যে ভালো লাগা কাজ করতো। মনে হতো মায়া, মমতায় ভরা এই মানুষটি আমার খুব আপনজন। হৃদয়ের খুব কাছে যার বসবাস। আমার মতো হয়তো অনেকেই তার সিনেমা দেখে এমনটিই অনুভব করেছেন! এটাই তার অভিনয়ের ক্যারিশমা। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্বে মোহিত হননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।’

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রীর শাবানার জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন শাকিব খান। বলেন, ‘সুস্থ থাকুন, আরও বহুদিন আমাদের মাথার ওপর শীতল ছায়া হয়ে থাকুন। শুভ জন্মদিন।’

চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের প্রথম সারির চিত্রনায়িকা ছিলেন শাবানা। টানা তিন দশক সুনিপুণ অভিনয় করে নিজেকে অতুলনীয় করে তুলেছেন তিনি। প্রেমিকা, আদর্শ স্ত্রী, যোগ্য কন্যা, আদরের বোনসহ প্রায় সব চরিত্রে অভিনয় করে জয় করেছেন কোটি মানুষের মন। তিনি অভিনয়ে নেই দীর্ঘ সময়। স্থায়ী হয়েছেন সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে।

চট্টগ্রামে জন্ম হলেও ঢাকার গেণ্ডারিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হন শাবানা। মাত্র ৯ বছর বয়সে তার শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শাবানা। ওই সময় পর্দায় নাম ছিল রত্মা। এরপর ‘তালাশ’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় নৃত্যশিল্পী ও অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। সহনায়িকা চরিত্রে দেখা যায় ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ও ‘ডাক বাবু’তে। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’তে চিত্রনায়ক নাদিমের বিপরীতে নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন তিনি। আর তখন রত্মা থেকে হয়ে যান শাবানা। বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত ‘চকোরী’ ছবি ব্যবসা সফল হয়। এরপর থেকে শাবানাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

তিন দশকের ক্যারিয়ারে নাদিম, রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানার সঙ্গে জুটি বেঁধে শাবানা উপহার দেন জনপ্রিয় অনেক ছবি। তিনি কাজ করেছেন বলিউডের রাজেশ খান্নার বিপরীতেও।

শাবানা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে- ‘ভাত দে’, ‘অবুঝ মন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরোধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লুটেরা’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আক্রোশ’ ও ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ প্রভৃতি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শাবানা ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন শাবানা। দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা সংস্থা এসএস প্রোডাকশন। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে অনেক জনপ্রিয় সিনেমা। ১৯৯৭ সালে শাবানা অজানা কারণে হঠাৎ বিদায় নেন চলচ্চিত্র থেকে।

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে