পাঁচ ব্যাংকে অর্থ সংকট: গ্রাহকের আমানত আটকে বিপাকে লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংকে (এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী) জমানো টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা। ব্যাংকগুলোতে নগদের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় কয়েক হাজার টাকাও তুলতে না পেরে খালি হাতে ফিরছেন আমানতকারীরা।
ব্যাংকে গেলেও টাকা নেই হাতে
বুধবার রাজধানীর হাটখোলা এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখা যায়, এক মাস ধরে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ জন গ্রাহক টাকা চাইতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন। এমনকি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থও নেই। প্রায় একই পরিস্থিতি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়ও। এক কর্মকর্তা জানান, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরা একেবারেই ফেঁসে গেছি।”
গ্রাহকের হতাশা ও ক্ষোভ
স্কুলশিক্ষক আবদুল কাদের ১৮ বার ব্যাংকে গিয়ে নিজের এক লাখ ২৭ হাজার টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। আরেক গ্রাহক সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে পাওনা ফেরত চাইছেন, কিন্তু এক টাকাও পাননি। চিকিৎসা, সন্তানদের বেতন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অর্থ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অনেকে। বেশ কয়েকটি শাখায় গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
সংকটের পেছনের কারণ
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে ব্যাপক লুটপাট, ঋণ কেলেঙ্কারি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব ব্যাংক কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিলেও এখন তা বন্ধ রাখা হয়েছে। একীভূত (মার্জার) প্রক্রিয়ায় না আসায় এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচ ব্যাংকের জন্য সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ভয়াবহ আর্থিক চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, কেবল এই পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা—যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৭৭ শতাংশ। মূলধনের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকগুলোর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯২ লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৫ হাজারেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ অর্থ খেয়ে ফেলা হয়েছে। পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩৫ বিলিয়ন ডলার।” তিনি আরও জানান, কেবল আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে গ্রাহকদের আমানত ফেরত স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। এর মধ্যে প্রতিদিন লাখো গ্রাহকের কষ্ট বাড়ছে, যা কেবল আর্থিক নয়—মানবিক বিপর্যয়েও রূপ নিয়েছে।
- অবশেষে স্বপ্নপূরণ: প্রশংসার জোয়ারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান
- শেষ সময়ে আবারও গোল : ৭ গোলে শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ
- ব্রেকিং নিউজ : নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল
- বাংলাদেশ বনাম ভারত:শেষ হলো ৯০ মিনিটের খেলা
- ৫ ধরনের জমি নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিল ভূমি মন্ত্রণালয়
- পাল্টে গেল বাজার, হঠাৎ কেন এই দাম হলো ইলিশের
- প্রেমিকার ফোন ব্যস্ত, রাগে গোটা গ্রামের বিদ্যুৎ কেটে দিলেন প্রেমিক
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল
- ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের হঠাৎ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য
- আজ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে
- মাইকে ঘোষণার পর শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের ভয়াবহ লড়াই, আহত অর্ধশতাধিক
- আজকের ম্যাচে ম্যাচ সেরা হলেন যে ক্রিকেটার
- জাপা কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগে উত্তেজনা
- সৌদি আরবে আঘাত হানলো ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: আবারও গোল, ৭০ মিনিট শেষ