| ঢাকা, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘গার্ড অব অনার’ পাওয়ার ৪ মাস পর অবসর নিশ্চিত করলেন মাহমুদউল্লাহ

২০২১ নভেম্বর ২৪ ২৩:৫০:৪৪
‘গার্ড অব অনার’ পাওয়ার ৪ মাস পর অবসর নিশ্চিত করলেন মাহমুদউল্লাহ

গত ১১ জুলাই, হারারে টেস্টের শেষ দিনে মাঠে নামার সময় সতীর্থদের কাছ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ পান মাহমুদউল্লাহ। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা তিনি ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের জানান বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। টিভি ধারাভাষ্যকাররাও পরে জানিয়ে দেন অবসরের কথা। কিন্তু এরপর এটি নিয়ে চলতে থাকে নানা লুকোচুরি, ছড়াতে থাকে ধোঁয়াশা।

অবশেষে সেই টেস্ট শেষ হওয়ার চার মাসের বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো টেস্ট থেকে তার অবসর। বুধবার সন্ধ্যায় বিবৃতিতে দিয়ে মাহমুদউল্লাহর অবসর নিশ্চিত করে বিসিবি।

জুলাইয়ে ওই টেস্ট দিয়েই দেড় বছর পর টেস্টে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার ম্যাচে দলের চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে খেলেন ১৫০ রানের অসাধারণ ইনিংস। পরে ম্যাচের তৃতীয় দিনেই তিনি ড্রেসিং রুমে এই সংস্করণ ছাড়ার কথা জানান বলে শোনা যায়। টেস্টের শেষ দিনে তিনি ‘গার্ড অব অনার’ পেলেও ম্যাচের পর অধিনায়ক মুমিনুল হক কিংবা তিনি নিজে, কেউই খোলাসা করেননি কিছু। পরে তার হঠাৎ অবসর নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

সব মিলিয়ে ৫০ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরি ও ১৬ ফিফটিতে ২ হাজার ৯১৪ রান করেছেন ৩৩.৪৯ ব্যাটিং গড়ে। শেষ দিনের আগে বোলিংয়ে উইকেট ৪৩টি, অভিষেক টেস্টের সেই বোলিংই একমাত্র ৫ উইকেট। মূল অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে নানা সময়ে ৬টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

এই পরিসংখ্যান বলছে, খুব সমৃদ্ধ নয় তার টেস্ট ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যদিও খুব খারাপ নয়। তবে শুরুতে যে সম্ভাবনার ছাপ রেখেছিলেন, সময়ের সঙ্গে যে প্রত্যাশা বেড়েছিল তার কাছে কিংবা তিনি নিজেও হয়তো যে উচ্চতায় দেখতে চেয়েছিলেন নিজেকে, চাওয়া-পাওয়াগুলো মেলেনি এক বিন্দুতে।

বিদায় বেলায় যে বার্তা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাতে মিশে ছিল কষ্টের প্রলেপ। তিনি বলেন, ‘যে ফরম্যাটে আমি দীর্ঘদিন দলের অংশ ছিলাম, সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। আমি সব সময়ই মাথা উঁচু করে চলতে চেয়েছি এবং বিশ্বাস করি, এখানই টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করার সঠিক সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিসিবি সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যখন আমি টেস্ট দলে ফিরে আসি তিনি আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। দলের সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে সব সাপোর্ট স্টাফকেও। তারা সবাই আমাকে সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন এবং আমার সামথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারাটা সব সময়ই একটা সম্মানের বিষয়। অনেক স্মৃতি জমা হয়ে আছে, যা সারাজীবন আমার মনে পড়বে।’

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে