করোনাভাইরাস মহামারী আকারে পৃথিবীর প্রায় সবগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, এই অবস্থায় এপ্রিলের ১ তারিখে থেকে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি)ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ করে ফেলেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তৈরি হয়ে গেছে প্রশ্নপত্র, নির্ধারণ করা হয়েছে পরীক্ষা সেন্টারও। তবে এপ্রিলের ১ তারিখেই পরীক্ষা দিতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কাছে আপত্তি জানানোয় পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত জাতীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাও স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সভার মতো স্থগিত হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষাও।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক স্থগিত হয়েছে, তবে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। সিদ্ধান্ত আসতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যেমনি হোক না কেন পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। পরিস্থিতি ভালো থাকলেও কমপক্ষে ১৫ দিন পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে আরও বেশি সময় নিতে হবে। এই আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীরা মোটেও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবে না।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাউজিয়া বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, কোচিং সেন্টার বন্ধ, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নিলে ফলাফল বিপর্যয় হতে পারে। আশাকরি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে।’

এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সকল ধরনের প্রস্তুতি আটকে গেছে। তবে এইচএসসি আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত বিশ্বের অন্তত ১৭০টি দেশ করোনা সংক্রমনের শিকার হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ লাখেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যেখানে ৮ হাজারেরও বেশি সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।