| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭

মালয়েশিয়া হাইকমিশন সুখবর দিলেন প্রবাসীদের

২০২০ আগস্ট ২৬ ২০:০৭:২৪
মালয়েশিয়া হাইকমিশন সুখবর দিলেন প্রবাসীদের

করোনার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা কঠিন সময় পার করছেন। তবে, এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতির মাঝেও বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের করোনা চিকিৎসা, শ্রমিক পুনর্বাসন, কোম্পানি পরিবর্তন সুবিধা প্রদান করেছে এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা কর্মীদের এবং অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণের ইতিবাচক সম্মতি প্রদান মালয়েশিয়ার সরকারের সুদৃষ্টির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

করোনা পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোনো বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো সমস্যা না হয় সবদিকে সতর্ক থেকে হাইকমিশন দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

মালয়েশিয়ায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসায় সফল হওয়ায় অর্থনীতি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে। মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে কঠোর মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার জারি করলে অতি আবশ্যক এবং জীবন রক্ষাকারী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ থাকে। সে সময় বাংলাদেশি কর্মীরা এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছে করোনাযোদ্ধা হিসেবে।

দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ১৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মালয়েশিয়ার সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া

সরকার কোম্পানি পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে যা পূর্বে ছিল না। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি করোনা পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক মন্দা আক্রান্ত বা দেউলিয়া হয়েছে বা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য সেসব কোম্পানিকে তাদের বিদেশি কর্মীদের একই সেক্টরে অন্য কোম্পানিতে ভিসা পরিবর্তন তথা পুনঃনিয়োগ করা হচ্ছে।

এজন্য হাইকমিশন, কর্মী, কোম্পানি এবং মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, যাতে কাউকে কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরে যেতে না হয় এবং বিষয়টি চলমান আছে।বাংলাদেশি শ্রমিকদের এ

সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য সরাসরি হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা কর্মীদের বৈধতা দিয়ে কর্মে নিয়োগ এবং অবৈধদের বৈধতা প্রদানের প্রস্তাব করলে মালয়েশিয়া সরকার গ্রহণ করে এবং ইতোমধ্যে কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন চলছে।

তিনি বলেন, ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা কর্মীদের এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে শ্রম স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনায় বিশেষ করে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বৈধতা দিয়ে পুনরায় কর্মে নিয়োগদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তাতে মন্ত্রী ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

হাইকমিশনার বলেন, মাহামারি সময়ে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বিশেষ করে ট্যুরিস্ট এবং সাধারণ কর্মী ব্যতীত অন্যান্য ভিসাধারীদের কোনো জরিমানা ছাড়াই মালয়েশিয়া ত্যাগ করার সুযোগ দিয়েছে। বিদেশি কর্মীদের ভিসা রিনিউয়ের সময় লেভি পরিশোধের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা লেভির ২৫ শতাংশ মওকুফ সুবিধা পাচ্ছেন।

হাইকমিশনার জানান, ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগে শূন্য ব্যয় নীতির সুবিধা পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশি কর্মীরা। শীর্ষস্থানীয় গ্লোভস প্রস্ততকারক কোম্পানি ডব্লিউ আরপি, নাইট্রিটেকস, টপ গ্লাভস, হার্তালেগাসহ অনেক কোম্পানি বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় ফেরত দিয়েছে। আরও বেশ কিছু কোম্পানি শূন্য অভিবাসন ব্যয় বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে।

করোনাকালে মালয়েশিয়ান সরকারের এস ও পি পরিপালন করে প্রবাসী কর্মীদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে হাই কমিশন।করোনাকালে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) জারি করলে কর্মহীন কর্মীদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কারণে মালয়েশিয়া সরকার হাইকমিশনের প্রশংসা করে। বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন।

হাইকমিশন বলছে, কোভিড- ১৯ মহামারির বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সরকারের উদ্যোগকে বাংলাদেশ সরকার প্রশংসা করেছে। মালয়েশিয়া সরকার নিজ দেশের নাগরিক এবং বিদেশি অভিবাসী সবাইকে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছে।

মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, বাংলাদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার পরিষেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল এবং ডিটেনশন কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শন করতে এবং কনস্যুলার সার্ভিস প্রদান করতে দূতাবাসের অনুরোধগুলির প্রতি মালয়েশিয়া সরকার সব সময় ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেছে। মালায়ান ম্যানশন, সেলেঙ্গার ম্যানশন এবং প্লাজা সিটি ১-এ বর্ধিত নিয়ন্ত্রণ আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তার জন্য হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের যৌথ সহযোগিতা দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই করোনাকালেও বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।চলমান কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন মালয়েশিয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি বিন ইয়াকুবের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ান জনগণের জন্য স্বাস্থ্য রক্ষা সামগ্রী উপহার তুলে দেন।

বৈঠকে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, শ্রমিক, বাণিজ্য, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং কোভিড পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে নবমাত্রায় কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অত্যন্ত সফলভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় মালয়েশিয়া সরকারের প্রশংসা করেন।

এছাড়া মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতা প্রদানের জন্য অনুরোধ করলে জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও সততার প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিগত ৬ বছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় শেখ হাসিনার প্রসংশা করেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশী কর্মী, বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পাঠকের মতামত:

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর



রে