| ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

এই বুঝি কেউ এলো খাদ্যসামগ্রী নিয়ে

২০২০ এপ্রিল ০৫ ১৩:০০:২১
এই বুঝি কেউ এলো খাদ্যসামগ্রী নিয়ে

ঘরে খাবার নেই। নেই আয়ের উৎস। ফলে কে, কখন ত্রাণ নিয়ে আসে সে অপেক্ষায় সকাল থেকে সড়কে বসে রয়েছেন ফাতেমা বেগম। সারাদিনে খেয়েছেন কেবল এক বোতল পানি। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে এলেও কেউ খাবার নিয়ে আসেনি।শনিবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর রোডের আড়ং শপির মলের সামনে এসব কথা জানান গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। পঞ্চাশোর্ধ এই নারী জানান, তিনি অন্যের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর সব বাসা থেকেই তাকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।

যে দুটি বাসায় কাজ করতেন, এরমধ্যে একটি বাসা থেকে পুরো বেতন এবং অন্যটি থেকে অর্ধেক বেতন দেয়া হয়েছে। এবার মাথার উপর বাড়তি চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসা ভাড়া। ফাতেমা জানান, যেসব বাসায় কাজ করতেন, সেখান থেকে বেতনের পাশাপাশি তাকে খাবার দেয়া হতো। ফলে তার দৈনিকের খাবার প্রয়োজন সেখান থেকে মিটে যেত।

বর্তমানে সে সুযোগ না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। সরকারের কোনো সংস্থা বা কোনো দাতা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসবেন। সে আশায় সকাল থেকে বসে রয়েছেন সড়কের পাশে ফুটপাতে। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও এমন কারো দেখা মেলেনি।

ফাতেমা বলেন, ‘ঘর ভাড়া আছে, ঘর ভাড়া দিতার তাছি না খুব কষ্ট করতাছি। কিছুই ফাই না। এই মাটির উপর কিচ্ছু ফাই নাই! কত মাইষেরে দিতাছে, কত মাইনেষের সিলিপ দেয়, কার্ড দেয়, আমি কত মাইষেরে কইলাম। কেউ দেয় নাই। খালি মুখ বুইঝ্যা বুইঝ্যা (মুখ চিনে) কার্ড দেয়, আমরা ফাই না।‘

কেবল ফাতেমা হয়, দারিদ্রতা চেপে ধরেছে আরও বেশ কয়েকজনকে। তারাও ফাতেমার পাশেই বসে রয়েছেন। একবার ডানে, একবার বামে তাকাচ্ছেন। এই বুঝি কেউ এলো খাদ্যসামগ্রী নিয়ে!

তাদের মতো অপেক্ষায় রাহেলা খাতুন। বসে রয়েছেন সড়ক বিভাজকের উপর। অপেক্ষার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আগে অন্যের বাসায় কাজ করতাম, এখন কাজ নাই, বেকার। সকাল থেকে বইসা আছি, কিছু পাই না, খাবার পাইনা, চাল-ডাইলও পাইনা, মাইষে পায়

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে