| ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনাভাইরাস : যে শহরে রাস্তায় পড়ে আছে লাশ

২০২০ এপ্রিল ০৫ ০১:০২:১৯
করোনাভাইরাস : যে শহরে রাস্তায় পড়ে আছে লাশ

ইকুয়েডরের সবচেয়ে জনবহুল শহর গুয়াইয়াকিলে করোনাভাইরাস মহামারিতেই শুধু হাসপাতালে মানুষ মারা যাচ্ছেন না, এখানে মানুষকে রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মরদেহগুলো সরিয়ে নিতেও কয়েকদিন সময় লেগে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির গুয়াইয়াস প্রদেশে করোনাভাইরাসের কারণে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা করোনাভাইরাসে ল্যাটিন অ্যামেরিকার সবগুলো দেশ মিলিয়ে মারা যাওয়া মানুষের চেয়েও বেশি। এ প্রদেশে মোট ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ জনের। তবে প্রদেশটির রাজধানী গুয়াইয়াকিলেই মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশ রোগীর বসবাস। এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শহরগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে মাথাপিছু করোনাভাইরাস আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। তার ওপর ভাইরাস পরীক্ষার আগেই যারা মারা গেছেন, তাদের এই পরিসংখ্যানের বাইরে রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ইকুয়েডরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে রয়েছে ব্রাজিল ও চিলি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে ইকুয়েডরে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের চাইতে বেশি। গুয়াইয়াকিলের শেষকৃত্য আয়োজকরাও এই পরিস্থিতির সামলে উঠতে পারছে না। সংকটের মাত্রা এমন যে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো মৃতদেহ সরিয়ে নিতে এবং সমাহিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন।

ইকুয়েডরের রাজধানী থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ২৫ লাখ মানুষের বসতির কুইটো শহরে বাস করেন জেসিকা কাস্তেদা। তিনি বলেন, ‘আমার মামা সেগুন্দো ২৮ মার্চ মারা যান এবং কেউই আমাদের সাহায্য করতে আসেনি। হাসপাতালে বিছানা পাওয়া যায়নি এবং তিনি বাড়িতেই মারা যান। আমরা জরুরি সেবা সংস্থাগুলোয় খবর দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের বলেছে ধৈর্য্য ধরতে। তার মরদেহ এখনো বিছানায় পড়ে আছে, আমরা ছুঁয়েও দেখতে পারিনি।’

যারা রাস্তায় পড়ে মারা যাচ্ছেন, তাদের মৃত্যুর খবর মানুষকে জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে, একজন ব্যক্তি একটি হাসপাতালের বাইরে পড়ে আছেন এবং একটি বাড়ি থেকে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করা হচ্ছে (যদিও বিবিসি স্বাধীনভাবে ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি)।

গুয়াইয়াকিলে প্রকাশিত দৈনিক এল তেলেগ্রাফোর সাংবাদিক জেসিকা জাম্ব্রানো বলেন, ‘আমার বন্ধু বাজার করতে গিয়ে মোড়ের পাশে একজন মৃত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। রাস্তার ঠিক কয়েক মিটার দূরে আরও একটি লাশ রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখানে আমরা রাস্তায় মানুষকে ঘুমোতে দেখতে অভ্যস্ত। এখন আমরা দেখছি গৃহহীন মানুষেরা শহরের কেন্দ্রে মারা যাচ্ছেন।’

পাঠকের মতামত:

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর



রে