| ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রচারবিমুখ বুবলীর কুশলী উত্তর

২০১৯ নভেম্বর ২৬ ১৫:০৫:২২
প্রচারবিমুখ বুবলীর কুশলী উত্তর

যেন ঘড়ির কাঁটা মেনে ডাক্তার হাজির! সাত সকালে সেটে এলেন মিষ্টি মেয়ে শবনম ইয়াসমীন বুবলী। সুপার নোভা হাসি দিয়ে শুভেচ্ছা সারলেন। নিলেন একটু সময়। ঢুকে পরলেন গ্রিন রুমে।

গেলো দুই দিন আউটডোর করে আজই এফডিসিতে প্রথম সেট পরেছে সৈকত নাসির পরিচালিত সিনেমা ‘ক্যাসিনো’র। বিশাল সেটে ঘুরতে ঘুরতেই আড্ডা হচ্ছিল পরিচালক সৈকত নাসিরের সাথে। বুবলীর সাথে এটাই তার প্রথম কাজ। বললেন, ছবির গল্পটা নিয়ে দীর্ঘ আড্ডা হয়েছে তাদের। সেই গল্পেরই অনুবাদ ‘সৈকত-বুবলী-নিরব’ ত্রয়ীর সিনেমা ‘ক্যাসিনো’।

ঘড়ির কাঁটা ঘুরলো একশ আশি ডিগ্রী। আমরা মুখোমুখি হলাম বুবলীর। ডার্ক রেডিশ ব্রাউন রঙের মিশেলে গ্রিন রুমে তখন অপরূপ স্নিগ্ধতা। সেই স্নিগ্ধতা মুখর করে আলাপ শুরুতেই এলো বুবলীর মাঝের চুপকথা ঘিরে। বললেন, ‘আমি বরাবরই প্রচার বিমুখ। কিছু নিয়ে খুব হৈ চৈ করা কিংবা ফোকাস থাকা-এটা আমার হয় না। তার মানে এটাও নয় যে, আমি ইচ্ছে করে কাউকে এভয়েড করছি। আমি এরকমই। চুপচাপ। নিজের মতো’।

‘আর এটা তেমন কোন ব্রেক না। মাত্র কিছুদিন। কোরবানী ঈদেই তো আমার ছবি মুক্তি পেলো। কিছুদিন আগেই শুটিং করেছি। যেহেতু রিসেন্ট কয়েকটা প্রজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছিল, তার জন্য একটু প্রস্তুতি। নিজেকে সময় দেওয়া। আম্মুও একটু অসুস্থ ছিল। সব কিছু মিলিয়ে ব্রেক ঠিক বলব না। বলব, নিজের মতো করে সময় কাটানো’।

প্রসঙ্গ বদলে আমরা বুবলীর বর্তমান মুখরতা নিয়ে মুখর হলাম। মানে তার নতুন ছবি ক্যাসিনো ঘিরে! দুই আড়াই মাস আগেই নাকি প্রজেক্টটা ফাইনাল হয়েছিল। বুবলী বলছেন, ‘সৈকত ভাই, নিরব ভাই সবাই সবাই ফাইনালি কন্টাক্ট করে বলল, আমরা বসি। সবাই মিলে গল্পটা শেয়ার করি। তাদের একটা প্ল্যানিং ছিল। আর আমার কথা যদি বলি, আমি সবসময় বলে আসছি, ভালো ভালো প্রজেক্টে আমি কাজ করতে চাই। আমার কাজের সংখ্যাও খুব কম। তাই অপেক্ষা করি, ভালো কোন প্রজেক্টের। কারণ, আমাকে কিছু দর্শক অল্প সময়েও যে ভালোবাসা দিয়েছে তাদের জন্য আমার ভালো কিছু করার দায়বদ্ধতা আছে। মাঝে অনেকগুলো প্রজেক্টও এসেছিল। অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। তবে ব্যাটে বলে মিলছিল না। তো এই প্রজেক্টে আমরা সবাই যখন একসাথে হলাম, স্টোরিটা শুনলাম, প্ল্যানিংটা সবাই শেয়ার করলাম, প্রেজেন্টেশান থেকে শুরু করে সবকিছু ভালো লাগলো, তখন মনে হলো দর্শক পছন্দ করবে ছবিটা। আর দর্শকের জন্যই তো আমি!’

‘এছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যখন মনে হয় একটা ছবির গল্প সুন্দর প্লাস ডিরেক্টর-এই দুইটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাসিনোর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। সৈকত নাসির আমার কাছে এই জেনারেশনের নির্ভরযোগ্য একজন পরিচালক। ওনার পরিকল্পনা আমি শুনলাম। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, সময়ের সাথে দর্শকের প্রত্যাশার সিনেমা হবে ‘ক্যাসিনো’।

সময়ের আলোচিত শব্দ ‘ক্যাসিনো’ নিয়ে চলচ্চিত্র! বুবলী বলছেন, ‘টু বি অনেস্ট, শব্দটা কানেক্টিং। পুরো পৃথিবীর মানুষই বুঝবে। আর ছবিতে আমার রোলটা একটু সারপ্রাইজই থাকুক। বড় পর্দার স্টোরি দর্শক একটু কষ্ট করেই দেখুক না!’

প্রসঙ্গ আবার বদলালাম। আসলে এটাই জানতে চাইছিলাম, শাকিব-বুবলী জুটি ভাঙ্গলো কেন? কোন ছন্দপতন?সময় নিলেন বুবলী। সফট ড্রিংকসে চুমুক দিয়ে বলল ‘আমরা ইন্ড্রাস্ট্রিতে সবাই কাজ করছি। চাইছি ভালো কিছু কাজ হোক। আমার জায়গা থেকে যদি বলি, এজ এন আর্টিস্ট কোন ছন্দপতন হয়নি। কাজের ক্ষেত্রটা হয়তো বদলেছে। সে জায়গা থেকে এজ আ হিরো শাকিব অন্য একট্রেসদের সাথে অভিনয় করছে। কোন ভালো প্রজেক্ট পেলে আমিও করছি। সামনেও করব। আমার গল্পটা আমাকে প্রেফার করছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলে শাকিব খানের সাথেও অভিনয় করব। তবে শাকিব অনেক বড় মাপের শিল্পী। তার সাথে বেশ কয়েকটা ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। সেদিক থেকে আমি বলব, অনেক কিছু শিখেছি। ওনার কাছ থেকে যে এক্সপেরিয়েন্স আমি গেদার করেছি, তা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে’।

বুঝলাম, কুশলী উত্তর। তবে বুবলী কথা দিলেন, আর একদিন আরো কথা বলবেন। আপাতত নতুন বছরের পানে এই ঢালিউড অভিনেত্রী। সালটাই তার কাছে মজার। টুয়েন্টি টুয়েন্টি। তাই মার মার কাট কাট একটা বছরের প্রতীক্ষায় বুবলী।

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে